default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির বাসা ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)।

আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী দল স্থানীয় সময় বুধবার জুলিয়ানির বাসা ও অফিসে এই তল্লাশি চালায়। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র জুলিয়ানির অ্যাপার্টমেন্ট ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে অবস্থিত। আর তাঁর অফিস পার্ক অ্যাভিনিউয়ে।

জুলিয়ানির বাসা-অফিসে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারী দল কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউক্রেনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য যোগসাজশ নিয়ে জুলিয়ানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

তবে এফবিআই ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি।

সাধারণত কোনো আইনজীবীর বাসায় এভাবে তল্লাশি আমেরিকায় খুব একটা হয় না। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে বা ইউক্রেনের সঙ্গে লবিং করতে গিয়ে কোনো অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এমন তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের বিষয়টিও এ প্রক্রিয়ার অংশ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিকেলে জুলিয়ানির আইনজীবী রবার্ট কস্টেলো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বৈদেশিক লবিংয়ের সঙ্গে সম্ভবত কোনো অপরাধসংশ্লিষ্টতা নিয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে।

তল্লাশি দল চলে যাওয়ার পর রুডি জুলিয়ানির ছেলে অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে এসে লোকজনের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলতে থাকেন, সম্পূর্ণ বিদ্বেষমূলক কারণে তাঁর বাবার ঘরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।

নিজে আর এমন চাপ নিতে পারছেন না উল্লেখ করে অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, বিচার বিভাগের রাজনীতির বাইরে থাকার কথা। অথচ এখন রাজনীতির কারণেই তাঁর বাবাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন আইনজীবীর বেলায় এমন ঘটনা ঘটলে যেকোনো আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও তা অহরহ ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুব্ধ আমেরিকান নাগরিকের ছেলে হিসেবে এ বক্তব্য রাখছি।’

হোয়াইট হাউস থেকে আগেই বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের চলমান কোনো তদন্তের সঙ্গে তাদের (হোয়াইট হাউস) কোনো যোগসূত্র নেই।

একই তদন্তকারী দল জুলিয়ানির সহযোগী আইনজীবী ভিক্টোরিয়া টোয়েন্সিংয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে। সেখান থেকেও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া টোয়েন্সিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই আইনজীবী সব সময় দায়িত্বের সঙ্গে পেশাগত জীবন চালিয়েছেন। মার্কিন সরকারের বিচার বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, তিনি তদন্তের আওতায় নন। ফোন জব্দ করার জন্য চিঠি দিলেই তিনি তা তদন্তকারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন