default-image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে বাড়তে শুরু করে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা। এ অবস্থায় অনেকেই জরুরি এ পণ্যটি মজুত করতে শুরু করে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। এতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসির বাসিন্দা ম্যাট কোলভিন একাই মজুত করেছিলেন ১৭ হাজার ৭০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অবশ্য বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে সেগুলো গতকাল রোববার দান করে দেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেক ব্যবসা ক্ষেত্র যেমন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী উচ্চ মুনাফার লোভে জরুরি পণ্য মজুত করেছেন। শুধু ব্যবসায়ী কেন, অনেক সাধারণ মানুষও রীতিমতো মৌসুমি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। এমনই একজন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসির বাসিন্দা ম্যাট কোলভিন। ১৭ হাজার ৭০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুত করেছিলেন তিনি। এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে উচ্চ দামে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টিগোচর হলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও তাঁকে নানা হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠাতে থাকেন। দু-একজন তাঁর দরজা পর্যন্ত এসে হাজির হয়। এ অবস্থায় ম্যাট কোলভিন তাঁর কাছে থাকা দুই-তৃতীয়াংশ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দান করে দেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সকালে স্থানীয় গির্জায় তিনি এক লোকমারফত তাঁর কাছে থাকা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ব্যাকটেরিয়ানাশকের দুই-তৃতীয়াংশ পাঠান গির্জায় আগতদের মধ্য বিলি করার জন্য। আর টেনিসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর বাকি অংশটিও জব্দ করে, যা কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে বিলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ম্যাট কোলভিন ও তাঁর ভাই চলতি মাসেই কেনটাকি থেকে বিপুল পরিমাণ হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে মজুত করেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁদের এই মজুতের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মানুষের শঙ্কাকে পুঁজি করে তাঁদের ব্যবসার পরিকল্পনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয় সেখানে। একই সঙ্গে এও জানানো হয় যে, উচ্চ মূল্যে তাঁরা আমাজনের মাধ্যমে ৩০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করেন। বাজার মূল্যের চেয়ে অত্যধিক বেশি দাম রাখায় আমাজন তাঁদের পণ্যটি পণ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাঁদের সতর্কও করে।

সারা দেশ যখন হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য হাহাকার করছে, তখন কোলভিন ও তাঁর ভাই পণ্যটির অসংখ্য বোতল নিয়ে বসেছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসে এই খবর প্রকাশের পর পুরো এক দিন তাঁদের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে কোলভিন ও তাঁর ভাইয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। অনেকে কোলভিনের ই-মেইলে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁকে হুমকি পর্যন্ত দেয়। গত শনিবার রাতে এক ব্যক্তি কোলভিনের দরজায় এসে হাজির হয়। এরপরই পরিস্থিতি অনুধাবন করে কোলভিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ব্যাকটেরিয়ানাশক ওয়াইপসগুলো দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে ম্যাট কোলভিন বলেন, ‘আমি আমার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত। যখন আমি মজুতের সিদ্ধান্ত নিই, তখনো বুঝতে পারিনি যে এটি এমন মহামারি রূপ ধারণ করবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের এতটা সংকট তৈরি হবে, তা বুঝতে পারিনি। আমি দশ বছর ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্য কেনা-বেচা করি। কিন্তু এবার একটি বড় ভুল হয়ে গেছে।’

মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তাঁকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল জানিয়ে কোলভিন বলেন, তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি মানুষের এমন ঘৃণা তাঁকে ভীষণভাবে চমকে দিয়েছিল। ফোন বেজেই চলছিল। ই-মেইল ভরে যাচ্ছিল ভয়ংকর সব বার্তায়। একের পর এক হুমকি আসছিল। এসব দেখেই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত করাটা আমার লক্ষ্য ছিল না। আমি এমন লোক নই। আমাকে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে যেমনটি বলা হচ্ছে, আমি তেমন নই।’

তবে এত সব কান্নাকাটিতেও বিপদ এড়াতে পারছেন না কোলভিন। আমাজন ও ই-বে তাঁর অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে টেনিসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। একই সঙ্গে তাঁর কাছে থাকা সব পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টেনিসির অ্যাটর্নি জেনারেল হার্বার্ট এইচ স্ল্যাটারি বলেন, ‘এমন দুঃসময়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ধরনের মজুত আমরা সহ্য করব না। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন