default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি এখনো। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরাজয় মানছেন না। কিন্তু তাতে থেমে নেই বাইডেনের প্রশাসন গঠনের কাজ। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পদের জন্য বাইডেন তাঁর দীর্ঘদিনের দুই উপদেষ্টাকে বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ পদের জন্য বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের কয়েকজন দক্ষ ব্যক্তির নামও শোনা যাচ্ছে। দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকের নামও শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনে যুক্ত হতে যাওয়া কয়েকজনের নাম গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়। বাইডেনের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন মাইক ডোনিলন। তিনি বাইডেনের নির্বাচনী শিবিরের প্রধান কৌশলবিদ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বাইডেনের বক্তৃতা ও বিজ্ঞাপন তৈরিতে ছিলেন প্রধান ভূমিকায়। বাইডেনের নির্বাচনী শিবিরের চেয়ারম্যান স্টিভ রিচেটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের চিফ অব স্টাফ হিসেবে রন ক্লেইনের নাম আগেই ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাইডেন প্রশাসনে যুক্ত হতে যাওয়া আরও দুজনের নাম গত সোমবার প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমে। তাঁদের একজন হলেন জেন ও’ম্যালি ডিলন। তিনি বাইডেনের নির্বাচনী শিবিরের ব্যবস্থাপক ছিলেন। নির্বাচনের প্রচারণায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের মূল কারিগর তিনি। ডিলন ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যজন হলেন লুইজিয়ানা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সিডরিক রিচমন্ড। তিনি বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও হোয়াইট হাউসের ‘পাবলিক এনগেজমেন্ট’ বিভাগের পরিচালক হতে যাচ্ছেন।

বাইডেনের নির্বাচনী শিবিরের উপব্যবস্থাপক ছিলেন জুলি শ্যাভেজ রদ্রিগেজ। এর আগে তিনি নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার প্রচারণা শিবিরের প্রধান ছিলেন। তিনি হোয়াইট হাউসের ইন্টারগভার্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স কার্যালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পাচ্ছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিশেষ সহকারী ও তাঁর প্রশাসনের পাবলিক এনগেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন রদ্রিগেজ।

বাইডেনের নির্বাচনী শিবিরের জেনারেল কাউন্সেলর ডানা রেমাস বাইডেনের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি ওবামা ফাউন্ডেশন ও ওবামার ব্যক্তিগত কার্যালয়ের জেনারেল কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাইডেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি অ্যানি টোমাসিনি। তিনি বাইডেনের প্রচারণা শিবিরের ভ্রমণবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা। তাঁকে ওভাল অফিস অপারেশনের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেনের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তার নামও ঘোষণা করেছে বাইডেনের ক্ষমতা হস্তান্তর টিম। তাঁদের মধ্যে উরুগুয়ের সাবেক রাষ্ট্রদূত জুলিসা রায়নোসো প্যান্টালিয়ন জিল বাইডেনের চিফ অব স্টাফ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় জিলের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করা অ্যান্থনি বার্নাল জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন।

বাইডেনের প্রশাসনে যুক্ত হতে পারেন দুজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তাঁরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি। অন্যজন অরুণ মজুমদার। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক। বিবেক স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমন্ত্রী এবং অরুণ মজুমদার জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন বলে ওয়াশিংটন পোস্ট ও পলিটিকোর মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্লেইন বলেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও নর্বনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের কিছু লক্ষ্য ও জরুরি কিছু বিষয় রয়েছে। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0