default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া আয়কর নথির আরও তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি বলছে, ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামের রিয়েলিটি শো থেকে ট্রাম্প প্রায় ৪২৭ মিলিয়ন ডলার বানিয়েছেন।

‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ এনবিসি টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে এই শো শুরু করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বেশ কয়েক বছর ধরে এই রিয়েলিটি শোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ শোর বদৌলতে ট্রাম্প সেলিব্রেটি বনে যান। এই শো ব্যবহার করে একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প অর্থ কামাতেও এই শো ব্যবহার করেন।

বিজ্ঞাপন

‘নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, তারা ট্রাম্প ও তাঁর বিভিন্ন কোম্পানি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যে কর দিয়েছে, তার নথি হাতে পেয়েছে। এই নথির ভিত্তিতে পত্রিকাটি বলছে, ট্রাম্প নিজের কোম্পানিগুলোর বারবার লোকসান দেখিয়েছেন। আর বছরের পর বছর আয়কর এড়িয়ে গেছেন।

ট্রাম্পের আয়কর রিটার্নের যে নথি ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পেয়েছে, তার ভিত্তিতে পত্রিকাটি বলছে, ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানে যুক্ত থেকে ক্ষতিপূরণ, অনুমোদন ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রায় ৪২৭ মিলিয়ন ডলার বানিয়েছেন।

আয়কর নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্রাম্পের সেলিব্রিটি মূল্য পরিমাপ করেছে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’।

ট্রাম্পের আয়কর নথিতে দেখা গেছে, ১৬ বছরের বেশি সময়ে তিনি ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি আয় করেছেন ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই হিসাব ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এই হিসাবের বাইরে আরও হিসাব আছে।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’ উদঘাটন করেছে, দ্য অ্যাপ্রেনটিস অনুষ্ঠানে যুক্ত থেকে খ্যাতির মাধ্যমে ট্রাম্প অতিরিক্ত ২৩ কোটি ডলার কামিয়েছেন।

ট্রাম্পের করসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছু সাংবাদিক এও বলেছেন, ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ অনুষ্ঠান না থাকলে ট্রাম্পের পক্ষে ২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়া সহজ হতো না।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ট্রাম্প কর দিয়েছেন মাত্র ৭৫০ মার্কিন ডলার করে।

একই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সাল থেকে আগের ১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরই কর দেননি ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করেছেন যে ২০১৮ সালে তিনি অন্তত ৪৩ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন। তবে আয়কর রিটার্নের নথিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন তাঁর ৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার লোকসান হয়েছে।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এই প্রতিবেদনকে অবশ্য ‘পুরোপুরি ভুয়া খবর’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন