default-image

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর বলে এক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে। নানা রোগের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের করোনায় আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তবে টিকা দুটি বয়স্ক ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার গবেষণাটি প্রকাশ করে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, ফাইজার ও মডার্নার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এ গবেষণায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, টিকা দুটিই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তথ্য-উপাত্ত হাজির করে যে কোভিড-১৯–এর গুরুতর অসুস্থতা রোধ করতে পারে সেগুলো। এ দুই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সেটি দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিরা টিকার সব ডোজ নিলে কোভিড-১৯ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৯৪ শতাংশ কমে যায়। সিডিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, এক ডোজ নেওয়ার পর সেই ঝুঁকি কমে ৬৪ শতাংশ।
এর আগে বয়স্ক ব্যক্তিদের ও মডার্নার দুই টিকাতেই ঝুঁকি কমারওপর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করে ইসরায়েল। তবে সেটি ছিল শুধু ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নিয়ে। সিডিসির পর্যবেক্ষণে, ফাইজার  বিষয়টি উঠে এসেছে।
টিকার সব ডোজ নেওয়ার পর বয়স্ক ব্যক্তিদের ঝুঁকি কমে যাওয়া নিয়ে গবেষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন সিডিসির পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কিভ। তিনি বলেন, ‘গবেষণার ফলাফলটি আমাদের সমাজে ও হাসপাতালগুলোতে আশা সঞ্চার করবে।’

বিজ্ঞাপন

সিডিসি পরিচালক বলেন, ‘আমাদের টিকাদান কর্মসূচির পরিসর আরও বাড়লে হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোভিড-১৯ রোগীর চাপ কমে যাবে। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য হাসপাতালের কর্মী, শয্যা ও সেবা পেতে সহজ হবে।’

অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক জিন মারাজো বলেন, ৬৫ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বেশি, এমনটা দেখা যাচ্ছে এ গবেষণায়। ফলে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকেরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারবেন, ‘এ টিকা আপনাকে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখবে। এটি আপনার জায়গা নয়।’
এদিকে সম্প্রতি এক ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঘরের কোনো সদস্যকে সংক্রমিত করার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ কমে যায়।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) জানাচ্ছে, টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তার সংস্পর্শে আসা ঘরের অন্য মানুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার ৩৮ থেকে ৪৯ শতাংশ কমে যায়। ঘরের অন্য ব্যক্তিরা টিকা না নিলেও এমনটি দেখা গেছে গবেষণাটিতে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন