কনজিউমার ও ওয়ার্কার প্রোটেকশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সান্ড্রা এবিলিস বলেছেন, ফাস্ট ফুড ও খুচরা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রান্তিক কর্মীদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী থেকে আসা নারী। এসব কর্মীদের ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছা মতো কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া, চাকরিচ্যুত করা এবং কাজের শিফট পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানগুলো অমানবিক আচরণ করে আসছিল। এসব কর্মজীবী চলমান বাস্তবতার চেয়ে ভালো পরিস্থিতিতে কাজ করার অধিকার রাখেন উল্লেখ করে সান্ড্রা এবিলিস বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় নিম্ন আয়ের এসব কর্মজীবী স্বস্তির সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং যখন-তখন তাঁদের কেউ চাকরিচ্যুত করতে পারবে না।

নতুন আইনের ফলে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে প্রতিষ্ঠানকে। কাজে দক্ষ নয় এ অজুহাতে চাকরিচ্যুত না করে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কর্মীদের তিনবার সুযোগ দিতে হবে। লে-অফের ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতির ক্রমিক বিধি মানতে হবে। অর্থাৎ যে কর্মীর চাকরি আগে হয়েছে, চাকরিচ্যুতির দিকে সেই কর্মীর নাম আগে থাকবে। এমন বিধির কড়াকড়ি আরোপের ফলে নবীন কর্মজীবীদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফাস্ট ফুডের অনেক প্রতিষ্ঠান দিন রাত ২৪ ঘণ্টার জন্য খোলা থাকে। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানে নাজুক শিফটের কাজ হচ্ছে খুব ভোরের শিফট এবং রাতের শিফটের কাজ। নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় যখন-তখন কর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শিফট বদল করে দেওয়া যাবে না।

মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক নামের একটি সংগঠনের সহ নির্বাহী পরিচালক হজে লোপেজ বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে নিউইয়র্ক নগরের অসংখ্য এমন কর্মজীবী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মালিকদের ইচ্ছা অনুযায়ী আচরণে কর্মজীবীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে অনেক ক্ষেত্রেই। এর প্রভাব পড়ছে কর্মজীবীদের পরিবারে।

লোপেজ বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠান মালিকদের ন্যায্য আচরণ করার জন্য বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হবে।

নিউইয়র্ক নগরে ব্যাপকসংখ্যক বাংলাদেশিরা এসব ফাস্ট ফুড প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। ডানকিন ডোনাটস, ম্যাকডোনাল্ড, বার্গার কিং, সাবওয়ে, উইন্ডিজসহ চেইন ফাস্ট ফুডের দোকান ছাড়াও স্থানীয় মালিকানাধীন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এসব কর্মজীবী প্রায়ই কর্ম ঘণ্টা এবং শিফট বদলের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। নতুন আইনের ফলে এসব কর্মজীবীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।