মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ স্থানীয় সময় সোমবার এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলীয় আইদাহ অঙ্গরাজ্যর বোইস পাবলিক লাইব্রেরিতে। এই পাঠাগার থেকে ১৯১১ সালের ৮ নভেম্বর পড়ার জন্য একটি বই নিয়েছিলেন একজন পাঠক। বইটির নাম দ্য নিউ ক্রোনিক্যালস অব রেবেকা। মার্কিন লেখক কেট ডগলাস উইগিনের লেখা বইটি ১৯০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বইটি আর পাঠাগারে ফেরত দেওয়া হয়নি। মাঝে পেরিয়ে গেছে এক শতকের বেশি সময়। সম্প্রতি বইটি পাশের গার্ডেন সিটির একটি পাঠাগারে ফেরত দেন একজন। ওই পাঠাগারের কর্মীরা দেখেন, বইটিতে আইদাহর সেই পাঠাগারের ট্যাগ বসানো রয়েছে। পরে তাঁরাই বইটি ফেরত পাঠান।

বোইস পাবলিক লাইব্রেরির সহকারী অ্যানি ম্যারি মার্টিন মজা করে বলেন, ‘আসলেই বইটি নিজের জায়গায় ফিরতে অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছে!’ সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ১১০ বছর পরও বইটি বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে।

ধার নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বইটি ওই পাঠাগারে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তা না হলে জরিমানা গুনতে হতো পাঠককে। পাঠাগারের নিয়ম অনুযায়ী, এক দিন বিলম্বের জন্য পাঠকের জরিমানা নির্ধারণ করা রয়েছে ২ সেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক দিন নিজের কাছে ফেলে রাখায় বইটির বিপরীতে হয়তো জরিমানা জমেছিল অনেক।

পাঠাগারের নিয়ম মানলে ১১০ বছর ধরে বইটি নিজের কাছে রাখায় ওই পাঠকের ৮০০ ডলারের বেশি জরিমানা হওয়ার কথা। তবে ওই পাঠকের কাছ থেকে জরিমানা নেওয়া হবে না। কেননা, বইয়ের দামের চেয়ে জরিমানার পরিমাণ বেশি হলে, তা আর নেয় না পাঠাগার কর্তৃপক্ষ। দ্য নিউ ক্রোনিক্যালস অব রেবেকা–এর দাম মাত্র দেড় ডলার। যদিও বইটি কে ধার নিয়েছিল, এত বছর পরে এসে কে ফেরত দিল, এত দিন বইটি কোথায় ছিল—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর জানায়নি পাঠাগার কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন