default-image

সিনেটে অভিশংসন আদালতের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প খালাস পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জো বাইডেন বলেছেন, এ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্র ভঙ্গুর।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিচারকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘উইচ হান্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্পের বিচারে গতকাল শনিবার সিনেটের অভিশংসন আদালতে চূড়ান্ত ভোট হয়। ভোটে ট্রাম্পকে দণ্ড দেওয়ার পক্ষে পড়ে ৫৭ ভোট, বিপক্ষে ৪৩ ভোট।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দিলেও তিনি সাংবিধানিক আইনে রেহাই পেয়ে যান। কেননা, দণ্ড আরোপের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সিনেট সদস্যের সমর্থন দরকার ছিল। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি।

১০০ সদস্যের সিনেটের এই বিচারে ট্রাম্পের দণ্ড কার্যকর করতে অন্তত ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন দরকার ছিল। কিন্তু মাত্র সাতজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দেন।

অবশ্য বিচারের এই ফলাফল মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। আগেই ধারণা করা যাচ্ছিল, এবারও ট্রাম্পের দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

সিনেটে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা অভিশংসন বিচারে ভোটাভুটির পর বাইডেন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বাইডেন উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার অভিযোগের বিষয় নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও চূড়ান্ত ভোটে ট্রাম্পের দণ্ডাদেশ আসেনি।

এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ‘ইতিহাসের এই দুঃখজনক অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্র ভঙ্গুর।’

বাইডেন আরও বলেন, গণতন্ত্রকে সর্বদা রক্ষা করা দরকার। এ জন্য অবশ্যই সবাইকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন বাইডেন। তিনি বলেন, আমেরিকান হিসেবে, বিশেষ করে আমেরিকার নেতা হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব সত্যকে সমুন্নত রাখা। মিথ্যাকে পরাজিত করা।

সিনেটে অভিশংসন আদালতের বিচারে ট্রাম্প খালাস পাওয়ার পরপরই বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প এই বিচারের নিন্দা জানান।

সিনেটের যেসব সদস্য ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট’ আন্দোলন সবে শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি উজ্জ্বল, দীপ্ত ও অসীম আমেরিকান ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে উদ্ভাসিত হব।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেক কাজ।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দুই দফা অভিশংসন বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তাঁকে দণ্ডিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন