default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হলো স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে। এই বিতর্কের পর মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এই দুই প্রার্থীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করেছে।  সিএনএন বলছে, বিতর্কে একের পর এক অসত্য বলেছেন ট্রাম্প। তাঁর তুলনায় মোটাদাগে সত্য বলেছেন বাইডেন।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে নতুন দাবি করেছেন ট্রাম্প। বিতর্কে তিনি বলেন, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টিকা চলে আসবে। বিবিসি জানিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের টিকা কর্মসূচির প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা মনসেফ স্লাউই বলেন, অক্টোবরের শেষ দিকে একটি টিকার অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, আগামী বছরে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য এই টিকার ব্যবস্থা করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

এই করোনা নিয়ে বাইডেনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন,‘করোনার নাম করে বাইডেন দেশের সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে চান। কিন্তু আমি চাই সব সচল রাখতে।’ সিএনএন বলেছে, এই অভিযোগ মিথ্যা। এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছিলেন, দেশের বিজ্ঞানীরা যা বলতেন, তিনি সেই পদক্ষেপ নিতেন।

বিবিসি জানিয়েছে, বাইডেনের দাবি মোটাদাগে সঠিক। কিন্তু এমন অনেক দেশ রয়েছে যেগুলোয় করোনা পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও খারাপ। এই মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বাইডেন। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবে বাইডেনের অভিযোগ ঠিকই আছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩২ কোটি ৮০ লাখ, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশের একটু বেশি। আর করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে এই মৃতের সংখ্যা ২ লাখের বেশি।

এই বিতর্কে বাইডেন বলেছেন, ‘বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ আমাদের দেশে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে মারা গেছেন ২০ শতাংশ।’

বিজ্ঞাপন

ডাক ভোট নিয়ে বিতর্কের মঞ্চে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশের নানা প্রান্তে লাখো ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে ব্যাপক কারচুপি হতে যাচ্ছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। পরে তিনি আবারও বলেন, এটি একটি জালিয়াতির নির্বাচন।

সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প মিথ্যা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ঘটেনি। এই কারচুপি ঠেকানোর জন্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলো এবার যে পরিমাণ ডাক ভোটের ব্যবস্থা করেছে, তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এটা অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পদ্ধতিগত কোনো জালিয়াতি এতে নেই।

সিএনএন এ নিয়ে বারবার তথ্য অনুসন্ধান করেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও লাখো ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রাইমারিতে একই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ব্যাপক আকারে কারচুপির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ডাক ভোট নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবারের বিতর্কে এই প্রসঙ্গ উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দিকে তাকান, ডাক বিভাগের কর্মী ব্যালট বিক্রি করছেন। ব্যালট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সিএনএন জানিয়েছে, এই তথ্য মিথ্যা। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া সেক্রেটারি অব স্টেটও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বাইডেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচার শিবিরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছিলেন ট্রাম্প। এই অভিযোগ তিনি আবারও এনেছেন। কিন্তু সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বিজ্ঞাপন

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ চালু করার বিষয়টি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প এটিকে বাইডেনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, আপনি প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন। কিন্তু এই সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবি মিথ্যা। বাইডেন এই স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জনগণের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা পেতে যে বেসরকারি ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে, তা বাতিল করতে চাননি বাইডেন।

মন্তব্য পড়ুন 0