default-image

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে একদল বানর নতুন বন্ধুত্ব তৈরির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। পুয়ের্তো রিকোয় ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় মারিয়া তাণ্ডব চালায়। এতে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বানরের আবাসস্থলের গাছপালা উপড়ে পড়ে। গবেষকেরা দেখেন, প্রাকৃতিক ওই বিপর্যয়ের পর কায়ো সান্টিয়াগোতে বসবাসকারী ‘রেসাস ম্যাকাক’ প্রজাতির বানর পরস্পরের প্রতি আরও বেশি সামাজিক হয়েছে। কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষক ক্যামেলি টেস্টার্ড বলেন, বানরগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ সমাজে বাস করে। খাবার ও পানির মতো উৎস রক্ষা নিয়ে তারা আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের পর গবেষকেরা পূর্বাভাস দেন, টিকে থাকতে বানরগুলো হয়তো আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠবে। টেস্টার্ড বলেন, গবেষকেরা যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা মেলেনি। এর বদলে বানরগুলো আরও বেশি পরস্পরের কাছাকাছি এসেছে। আরও বেশি সহিষ্ণু ও বন্ধুত্বের গ্রুপ বড় করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষ যেভাবে বন্ধুর সঙ্গে কফি ভাগাভাগি করে, বানর সেভাবে সামাজিকতা বা বন্ধুত্ব তৈরি করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা।

বিজ্ঞাপন

গবেষক টেস্টার্ড বলেন, ঘূর্ণিঝড় মারিয়ার পর বানরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরির নেটওয়ার্ক আরও বেড়ে যায়। ঝড়ের আগে তাদের যে আচরণ ছিল, তার তুলনায় ঝড়ের পর পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। মানুষ যেভাবে সহজেই বন্ধুত্ব গড়ে, তেমনি বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রাণীদের মধ্যেও তেমনি বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে দেখা যায়। বানরেরা কেন আরও বেশি বন্ধু তৈরি করেছে, তা বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি।

তবে ক্যালিফোর্নিয়া, ডাভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ভেটেরিনারির পপুলেশন হেলথ অ্যান্ড রিপ্রোডাকশন বিভাগের অধ্যাপক ব্রেন্ডা ম্যাককোয়ান বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর তাদের ভবিষ্যৎ কঠিন পরিস্থিত মোকাবিলায় তারা বন্ধুত্বের সংখ্যা বাড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান হুমকিকে মানুষ কীভাবে মোকাবিলা করতে পারে, সে বিষয়টি তুলে ধরতে পারে এ গবেষণা। এ ছাড়া মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে এ গবেষণা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন