বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভয়েস অব আমেরিকার অনুষ্ঠান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জন লিপম্যান বলেন, ১৯৫৮ সালে ভয়েস অব আমেরিকার যখন যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন বাংলাদেশ ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে পরিচিত ছিল। তখন মার্শাল ল জারি ছিল এই এলাকায়। সেই সময় এ অঞ্চলে কোনো বেসরকারি রেডিও কিংবা টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। তখন সীমান্তের ওপার থেকে ভয়েস অব আমেরিকার রেডিওতে বাংলায় অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো। স্বাধীনতার খবর এবং তথ্য জানার জন্য এটা ছিল অন্যতম মাধ্যম।

বাংলা অনুষ্ঠান বন্ধের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শর্টওয়েভে শ্রোতার সংখ্যা ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু তাদের বাংলা সার্ভিসের ফেসবুক পেজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। ঠিক একই সময়ের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও দেখার পরিমাণ বেড়েছে ২৭৪ শতাংশ।
জন লিপম্যান বলেন, ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে স্থানীয় টেলিভিশন ও রেডিওগুলোর সঙ্গে। এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইনে খবর পাওয়ার চাহিদাও বেড়েছে। যেসব মাধ্যমে শ্রোতা বা গ্রহীতারা সক্রিয় সেই সব প্ল্যাটফর্মে বাংলায় খবর বা অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শতরূপা বড়ুয়া বলেন, সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার আগে পুরোনো অনুষ্ঠানগুলো প্রচার করা হবে। ১৯৫৮ সাল থেকে যাত্রা শুরুর পর যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে, তা তুলে ধরেতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের সার্ভিস ইতিহাস। আমাদের অনেকের কাছে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা সার্ভিসে কাজ করা ছিল স্বপ্নের মতো। ভবিষ্যতে যে পরিবর্তনগুলো হবে, এর মধ্য দিয়েও তা অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে বাংলা সার্ভিসে রেডিও বন্ধ হয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের ভাষায় ৩০ মিনিটের যে অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো তা বন্ধ হবে না। যদিও এই অনুষ্ঠিত প্রযোজনা করে থাকে বাংলা বিভাগ। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এ অনুষ্ঠানের প্রচার শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন