প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গৃহঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করেছেন। উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটদের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকজনের জন্য গৃহঋণের সুবিধা অবারিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির এক-পঞ্চমাংশ নির্ভর করে আবাসন শিল্পের ওপর। এ শিল্পের উদারনৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ এর মধ্যেই রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকানরা বলছেন, আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের জন্য সরকারি উদ্যোগ একটা সীমার মধ্যেই থাকা উচিত।

গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে প্রেসিডেন্টকে গৃহঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ওপর কর্তৃত্ব বৃদ্ধির সুযোগ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের পরই ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি (এফএইচএফএ) প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে স্যান্ড্রা থমসনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, স্যান্ড্রা থমসন যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী বাড়ির মালিকানা প্রাপ্তিতে বৈষম্য দূর করার কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন।

ফেনিমে এবং ফ্রেডিম্যাক নামের দুই ফেডারেল সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ গৃহঋণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। শীর্ষ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বলা হচ্ছে, দ্রুত একজন উদারনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ করে এ সংস্থা দুটির গৃহঋণ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য।

মার্কিন সিনেটে ব্যাংকিং কমিটির চেয়ারম্যান শেরউড ব্রাউনের মুখপাত্র বলেছেন, দেশের অর্থনীতির ভারসাম্যের জন্যও দ্রুত এ পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য পরিবর্তনের এ বিষয়টি খুব সহজ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন থেকে ফেনিমে এবং ফ্রেডিম্যাকের পরিবর্তন দাবি করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করা এবং মার্কিন সমাজে সম্পদ বৈষম্য দূর করার এ দাবি পূরণে বাইডেন প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গৃহঋণ সহজ এবং অবারিত করার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাপক হারে ঋণ অনাদায়ি হয়ে পড়লে সরকারকেই আবার ঋণদাতা সংস্থাগুলোকে বেইল আউট করতে হবে। নাগরিকের করের অর্থ দিয়ে এমন বিপর্যয় সামাল দিতে হয়েছিল ২০০৮ সালে।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় ঋণ প্রাপ্তি সহজ হলেও সংকট দূর করা সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন ক্রেতার চেয়ে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা কম। বিক্রির জন্য চিহ্নিত একটি বাড়ির পেছনে গড়ে তিনজন ক্রেতা হামলে পড়ছেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কম্পাস পয়েন্টের পলিসি রিসার্চ ডিরেক্টর আইজাক বলটেনেস্কি বলেছেন, গৃহঋণ সহজ করা হলেও আবাসন শিল্পের সংকট দূর হবে না বলে তিনি মনে করেন। চাহিদা থেকে বিক্রির জন্য মজুত বাড়ি কম থাকলে ঋণ অবারিত হলেও সমস্যার সমাধান হবে না বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ফেডারেল ঋণ সংস্থাগুলোর ক্ষমতাকে খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে প্রাইভেট সংস্থার মাধ্যমে গৃহঋণ পরিচালনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ডেমোক্র্যাট থেকে এ নিয়ে বিরোধিতা করা হয়। গৃহঋণের সুদের হার বাড়িয়ে, নানা ফি আরোপ করে গৃহঋণ গ্রহণ জটিল ও কঠিন করে তোলার কারণে ট্রাম্পের সময়ে আবাসন শিল্প চাঞ্চল্য দেখাতে পারেনি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় একজন উদারনৈতিক প্রশাসক স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান দলের শক্তিশালী সদস্য প্যাট টমি বলেছেন, আবাসন খাতে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। উদারনৈতিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, নিম্ন ক্রেডিটের লোকজনকে ঋণ প্রদান সহজ করতে হবে। ফেডারেল সংস্থার বাইরে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো যাতে নিম্ন ক্রেডিটের লোকজনকে ঋণ প্রদান করতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন ফি বাতিল করে নতুন বহু পরিবারের বাড়ি নির্মাণে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। বহু পরিবারের বাড়িতে বিনিয়োগ করলে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ি ভাড়া প্রদান করে গৃহঋণ সুদ এবং আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।