পেনসিলভানিয়ার সর্বোচ্চ আদালত কসবির বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পেয়েছেন। মামলার বিবরণে দেখা গেছে, কসবির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ না আনার ব্যাপারে প্রসিকিউটর একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু এই সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত বিচারের সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিচারিক এই ত্রুটি দ্রুতই ধরা পরার পরিপ্রেক্ষিতে কসবি কারামুক্তি পেলেন।

‘দ্য কসবি শো’ নামের টিভি শো যুক্তরাষ্ট্রে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ কমেডিয়ান কসবি তাঁর স্বভাবজাত কথোপকথনের মাধ্যমে জমিয়ে রাখতেন এই শো। ২০০৪ সাল থেকে একের পর এক নারী কসবির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনতে থাকেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কসবির জীবনে তখন থেকেই বিপর্যয় শুরু হয়।

কসবি কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেননি। তবে এমন অনেক অভিযোগের অর্থনৈতিক সমঝোতা হয়েছে।

বিচারে ২০১৮ সালে কসবির কারাদণ্ড হয়। তিনি এই দণ্ড মেনেও নেন। ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠের এক নির্জন কারাগারে তাঁর স্থান হয়েছিল।

‘সিভিল’ মামলার সমঝোতায় দেওয়া তথ্য কোনো ‘ক্রিমিনাল’ মামলায় ব্যবহার না করার বিষয়ে কসবির সঙ্গে প্রসিকিউটরের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু এমন চুক্তি রক্ষা করা হয়নি বলে পেনসিলভানিয়ার উচ্চ আদালত কসবির দণ্ড বাতিলের নির্দেশ দেন। কারামুক্তির পর আমেরিকার একসময়ের জনপ্রিয় এই সেলিব্রিটির তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে কসবির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলা কয়েকজন নারী গতকাল বুধবার বিকেলেই তাঁদের আইনজীবীদের পাশে নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

কসবির বিরুদ্ধে মামলায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী অ্যান্ড্রিয়া মস্টেন্ট তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ঘটনার পর যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা এগিয়ে আসতে উৎসাহ হারাবেন।

ভিক্টোরিয়া ভ্যালেন্টিনো নামের অপর এক নারী বলেছেন, বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকরের কারণে একজন ‘ধর্ষক’ আজ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াবেন! এ ঘটনাকে লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

ভিক্টোরিয়া অভিযোগ করেছিলেন, কসবি তাঁকে ১৯৬০ সালে ধর্ষণ করেন। ভিক্টোরিয়া বলেন, কসবি অন্তত ৬০ জন নারীকে যৌন নিপীড়ন করে তাঁদের জীবন দুর্বিষহ করেছেন।

জেনিস বেকার কিনি নামের অপর এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, কসবি তাঁকে ১৯৮০ সালে ধর্ষণ করেছিলেন। জেনিস বলেন, কারাগার থেকে বেরিয়ে কসবির মুক্ত বাতাসে হেঁটে যাওয়া দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন