default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকাকে নিরাপদ রাখার জন্যই এমন নিষেধাজ্ঞা জরুরি বলে মনে করেন ট্রাম্প। আমেরিকায় শরণার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার জন্যও তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় ১৯ এপ্রিল ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, জঙ্গিরা বিশ্বব্যাপী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে লোকজনকে দলে টানছে জঙ্গিরা। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রকে অধিকতর কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সাধারণ বুদ্ধি-জ্ঞানের ব্যবহার করতে হবে। অভিবাসন নিয়ে ইউরোপ যে ভুল করেছে, আমেরিকা যেন একই ভুল না করে।’

ট্রাম্প বিবৃতিতে বলেন, তাঁর শাসনামলের আগে যুক্তরাষ্ট্রও ইউরোপের মতো ভুল করে আসছিল। জঙ্গিদের হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করতে ইচ্ছুক হলে তাঁর সময়ের নিষেধাজ্ঞাগুলো বাইডেনকে পুনর্বহাল করতে হবে।

বাইরের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আরোপিত সব নিয়ন্ত্রণমূলক নিয়মনীতি আবার চালু করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান সাবেক প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এসব তিনি নিজের শাসনকালে সাফল্যর সঙ্গে করে এসেছেন বলে ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর পূর্বসূরি ট্রাম্পের আরোপিত মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশ থেকে আমেরিকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই মুসলমানপ্রধান দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এ নিয়ে মার্কিন উদারনৈতিকেরা প্রতিবাদ করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি ট্রাম্প।

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের সময় ট্রাম্প মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলেছিলেন। আমেরিকার জনগণের নিরাপত্তার জন্য এমন পদক্ষেপ জরুরি বলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীল লোকজনের মধ্যে ট্রাম্পের এমন মনোভাবের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করে একটি ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তখন এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। পরে নির্দেশনাটি ভিন্নভাবে জারি করেন তিনি। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের আমলে যে দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল, তার বেশির ভাগই মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বছরে শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ হাজার নির্ধারণ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করে শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমার আদেশটি বাতিল করেন।

উদারনৈতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। তবে এ বছর বিভিন্ন সমস্যা সামাল দিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণ হয়তো সম্ভব হবে না। তবে ট্রাম্পের সময়ের চেয়ে অনেক বেশিসংখ্যক শরণার্থীকে এবার যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া হবে। বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে।

হঠাৎই সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সময়ের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা নিয়ে কেন বিবৃতি দিলেন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে আসার সময় এফবিআইয়ের জঙ্গি তালিকায় থাকা দুই ইয়েমেনিকে গ্রেপ্তারের কথা জানা যায়।

ট্রাম্পের বিবৃতির পর এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি আগেই এক প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অভিবাসন নিয়ে উপদেশ গ্রহণ করার কোনো অবকাশ নেই।

সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এক দিন আগেই বলেছেন, অভিবাসন নিয়ে তিনি একটি শ্রদ্ধাপূর্ণ আলোচনা শুরু করার প্রয়াস নিয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রিপাবলিকান পার্টিকে অনেকটাই কুক্ষিগত করে রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর কাছ থেকে আসা সবশেষ বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্কারে শ্রদ্ধাপূর্ণ আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন