প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৬ জুলাই বলেছেন, এলাকায় এলাকায় গিয়ে, ক্ষেত্র বিশেষে দরজায় দরজায় টোকা দেওয়া হবে। অবশিষ্ট লোকজনকে টিকা দিয়ে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ঘরের দরজায় দরজায় গিয়ে তথ্য প্রদান করা হবে। টিকা যে নিরাপদ এবং সহজলভ্য এ তথ্য জানানো হবে এবং টিকা দেওয়ার জন্য লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

এই খবরে এর মধ্যেই সমালোচকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। টেক্সাস থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান ড্যান ক্রেনশো বলেছেন, “আমার দরজায় টোকা না দেওয়াই ভালো। সরকার আমার ‘মা-বাবা’ নয়।” তিনি বলেন, লোকজনকে স্বাধীনভাবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

রিপাবলিকান কংগ্রেসওমেন লোরেইন রবার্ট বলেছেন, সরকার একটি ঐচ্ছিক বিষয় নিয়ে লোকজনের দরজায় দরজায় যাবে কেন?

ফক্স নিউজের কন্ট্রিবিউটর নিকোল শাপিয়ের বলেছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের টিকা নিয়ে লোকজনের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসকের কথা হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এর মধ্যে সরকার নাক গলাবে কেন?

গত বছরের মার্চ থেকে ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এ পর্যন্ত সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লাখ ৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আরও বহু মৃত্যু এ হিসেবে আসেনি বলেও অনেকে মনে করেন। গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতিদিন ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ জটিলতার কারণে।

ব্যাপক প্রচারণা এবং সর্বত্র টিকা সহজলভ্য করার পরও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের কমসংখ্যক (৪৭.৯ শতাংশ) লোকজন পূর্ণ ডোজের টিকা নিয়েছে। শুরুর দিকে ব্যাপক হারে টিকা গ্রহণ করা হলেও এখন টিকাকেন্দ্রগুলো দিনভর জনশূন্য দেখা যায়।

মার্কিন শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৭০ শতাংশ লোকজনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে না পারলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠবে না। অনুমোদিত টিকাগুলো করোনার রূপান্তরিত ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংক্রমিত হলে টিকা গ্রহণকারীর মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়ার হার বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য রক্ষণশীল লোকজনসহ নানা ধর্মের লোকজনের মধ্যে টিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁরা পরীক্ষামূলক টিকা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করেন। এসব লোকজনকে সচেতন করার জন্য নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ৭০ শতাংশ লোকজনকে দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে না আসতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আবারও নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানানো হচ্ছে।