default-image

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবী লোকজনকে করোনার টিকা গ্রহণের জন্য সবেতন ছুটি দেওয়া হবে। টিকা গ্রহণের জন্য কর্মচারীদের সবেতন ছুটি দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ ধরনের ছুটি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক অধিকাংশ মানুষের অন্তত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করা হয়ে গেছে। ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০ কোটি লোককে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চান প্রেসিডেন্ট বাইডেন। গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর করোনা মহামারি মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের স্থানে রেখেছেন তিনি।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রাপ্তবয়স্ক লোক টিকা গ্রহণের জন্য ছুটি নিতে পারছেন না।

ছুটি নিলে ও টিকা গ্রহণের পর জ্বরসহ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে কর্মজীবীদের আয়ের ওপর চাপ পড়বে বলে শঙ্কা কাজ করছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মচারীদের টিকা গ্রহণের সুবিধা দিতে সবেতন ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানান।

টিকা গ্রহণের পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কর্মজীবী লোকজন প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য সবেতন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক কর্মজীবীকে সবেতন ছুটি প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হবে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। টিকার উদ্দেশ্যে সবেতন ছুটি প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যেক কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ সপ্তাহে ১৭ হাজার ১১০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স ক্রেডিট গ্রহণ করতে পারবে।

গত মার্চ মাসে পাস হওয়া ফেডারেল প্রণোদনা আইনের বরাদ্দ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই খাতে অর্থ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বাইডেন বলেছেন, টিকা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও কর্মজীবী উভয়েই লাভবান হবে।প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্সসুবিধা পাবে। কর্মজীবীরা শুধু নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নয়, একটি স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করতে পারবেন। এই পদক্ষেপের ফলে কর্মজীবীরা আরও উৎপাদনশীল ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে বাইডেন উল্লেখ করেন। কোনো কর্মজীবীর টিকা গ্রহণের জন্য তাঁদের মজুরি থেকে এক ডলারও হারানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন বাইডেন।

বিজ্ঞাপন

সোসাইটি ফর হিউম্যান সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মজীবী সবেতন ছুটি না পেলে টিকা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন। কিন্তু এখন করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গেলে কর্মজীবীরা সবেতন ছুটি পাবেন। টেস্টিং, কোয়ারেন্টিন পালনসহ স্কুলগামী কোনো শিশুকে দেখভালের জন্যও সবেতন ছুটি দেওয়া হবে।

বড় বড় প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে তাদের কর্মচারীদের এসব সুবিধা দিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ ঘোষণায় ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কর্মজীবীদের টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করবে। কর্মজীবীরাও উৎসাহ বোধ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ২০ কোটি ১৩ লাখ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। ১০ কোটি ১৩ লাখ লোক অন্তত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। আমেরিকার ৯০ শতাংশ লোকজনের বসবাসের পাঁচ মাইলের মধ্যে এখন টিকা গ্রহণের সুবিধা বিস্তৃত করা হয়েছে।

দ্রুততার সঙ্গে অধিকাংশ লোকজনের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন না করলে আবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় টিকা গ্রহণের হার কমে এসেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি বলেছেন, টিকা প্রদান কর্মসূচি কোনোভাবেই ব্যাহত হচ্ছে না। একই গতিতে পুরো দেশে টিকা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ। করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এক বছরের বেশি সময় ধরে ইতিহাসের নজিরবিহীন সব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন