default-image

ভিন্ন মোড় নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণের পক্ষে এ পর্যন্ত ১১ জন রিপাবলিকান সিনেটর তাঁদের অবস্থান প্রকাশ্য করেছেন। প্রভাবশালী সিনেটর টেড ক্রুজসহ এসব আইনপ্রণেতারা বলেছেন, ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তাঁরা ট্রাম্পের দাবির পক্ষে দাঁড়াবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তাঁরা ইলেকটোরাল ভোট গণনায় আপত্তি উপস্থাপন করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর টুইট বার্তায় বলেছেন, সত্য জানার পর এঁরা এগিয়ে এসেছেন। আরও সত্য বেরিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন , দেশ এসব আইনপ্রণেতাদের নাকি মনে রাখবে! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো মনে করছেন, নির্বচনের ফলাফল তিনি পাল্টে দেবেন।

প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং অন্যান্যরা শনিবারে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁরা ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের ফলাফলের ওপর কংগ্রেসে আপত্তি জানাবেন। নির্বাচনের ওপর ১০ দিনের নিরীক্ষা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফলাফল মেনে নেবেন না বলে যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন।  

কংগ্রেস একটি ইলেকটোরাল কমিশন গঠন করে তদন্ত করবে এবং নির্বাচনে বিরোধের রাজ্যগুলোর আইনপ্রণেতাদের ইলেকটোরাল ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা দেবে বলে তাঁরা তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ঝামেলা পাকানোর জন্য এর মধ্যে ট্রাম্প শিবিরের আরেকটি প্রয়াস বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা লুই গহেমার্ট টেক্সাসের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ইলেকটোরাল ভোট প্রত্যয়নের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আদেশ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নিজেই এ মামলায় তাঁকে এমন আদেশ না দেওয়ার জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন। বিচারক জেরমি কারনোডোল মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।

সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, ৬ জানুয়ারি সিনেটে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট দেবেন। তিনি তাঁর দলের সিনেটরদের বিবৃতি নিয়ে প্রকাশ্য কোনো অবস্থান প্রদর্শন করেননি।

শুধু ১১ জন সিনেটরই নয়, ধারণা করা হচ্ছে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প–সমর্থক এমন আরও শতাধিক আইনপ্রণেতারা ইলেকটোরাল ভোটের ফলাফল নিয়ে ৬ জানুয়ারি আপত্তি ওঠাবেন। এমন আপত্তি ওঠানোর মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যাবে, এমন কেউ এখনো মনে করছে না।

সিনেটর টেড ক্রুজকে আমেরিকার সাংবিধানিক আইনের পণ্ডিত ব্যক্তি বলে মনে করা হয়। একসময় আইনের অধ্যাপক ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরনের সঙ্গে টেড ক্রুজের প্রকাশ্য অবস্থান আমেরিকার গণতন্ত্রের স্বভাবিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন অনেকেই। এর মধ্যে বেশ কিছু সিনেটেরকে আগামী বছরে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াতে হবে। তাঁদের আবার নির্বাচিত হয়ে আসার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে জরুরি মনে করছেন এ আইনপ্রণেতারা। নিছক এ রাজনৈতিক কারণেই এঁদের অনেকেই ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির ভুয়া দাবির পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

default-image

প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর এমি ক্লবুচার বলেছেন, ইলেকশন কমিশন গঠনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে আমেরিকার জনগণের ভোটাধিকারের অবমাননার প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি অগণতান্ত্রিক, এমন প্রয়াস একদমই ব্যর্থ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিনেটর এমি ক্লবুচার বলেছেন, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রেরই জয় হবে।

সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চালর্স শুমার বলেছেন, ভোট নিয়ে কয়েক ডজন মামলায় হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপির আর কোনো দাবি ধোপে ঠেকে না। তিনি বলেন, কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ঠিকই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনকে ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিসকে অনুমোদন দেওয়া হবে। এই দুজন সাংবিধানিক নিয়মেই ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করবেন। শুমার বলেন, ‘এই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! নির্বাচন হয়েছে এবং ফলাফল পাওয়া গেছে।’

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে আইনপ্রণেতারা আপত্তি ওঠালে প্রতিটি আপত্তির জন্য আলাদা বিতর্ক ও ভোট হতে পারে। ট্রাম্প-সমর্থকদের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে, তাঁরা অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে এমন আপত্তি উপস্থাপন করবেন।

বিজ্ঞাপন

৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে কট্টর ট্রাম্প–সমর্থকদের আয়োজনে যে সমাবেশ হতে যাচ্ছে, তা ঘিরে শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে ট্রাম্পের করা বিভিন্ন মন্তব্য। ‘দেখা হবে’—বলেও ট্রাম্প বারবার টুইট বার্তা ও ফেসবুক পোস্ট দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করছেন, এখন তাঁর হিসাবে জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় বেশিসংখ্যক ভোট রয়েছে, যা ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে যথেষ্ট। আর সিনেটর জোশ হাওলি যে আপত্তি তোলার কথা বলেছেন, সেখানে পেনসিলভানিয়ার প্রসঙ্গটি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ থেকে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আলাবামার মো ব্রুকস। দুজনই আপত্তি তোলার ঘোষণা দেওয়ায় এই ইস্যুতে যৌথ অধিবেশনে বিতর্ক একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে।

অবশ্য ইলেকটোরাল কলেজের প্রত্যয়নের পর নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার চিন্তা ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী ছাড়া আর কেউ করতে পারছে না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁদের প্রস্তুতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জো বাইডেন। এমন বাস্তবতায় ৬ জানুয়ারি কোনো বিশৃঙ্খলা হলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মার্কিন জনগণের মনে। শঙ্কাটি বাড়িয়ে দিয়েছে ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের পরদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মধ্যপ্রাচ্য সফর স্থগিত হওয়ার ঘোষণায়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন