যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে কর্মসংস্থান আরও কমেছে
করোনা মহামারি বেড়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর মাসে কর্মসংস্থা আরও কমে গেছে। গত মাসে সারা দেশে মাত্র দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে লেবার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে।
টানা পাঁচ মাস থেকে কর্মসংস্থানের এই অধোগতি অর্থনীতির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর ৬ দশমিক ৭ শতাংশই এখন কর্মহীন। অক্টোবর মাসে কর্মহীনের হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে হানা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক কর্মজীবী বেকার হয়ে পড়ে। সংক্রমণ কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, নভেম্বর মাসে কর্মসংস্থান আশানুরূপ বৃদ্ধি পাবে। উৎসবের মৌসুমে খুচরা বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে লোক নিয়োগ করবে বলে আশা করা হয়েছিল, তা হয়নি।
শ্রম বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির আগে থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক কোটি কর্মসংস্থান কমে গেছে। বহু কর্মসংস্থার আর কখনো ফিরে আসবে না বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বত্র কর্মহীন মানুষকে কাজে ফেরাতে অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার তাগিদ এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
করোনা মহামারির কারণে বর্ধিত বেকার ভাতার প্রথম দফার মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। আরেক দফা শেষ হয়ে যাচ্ছে আসছে ৩১ ডিসেম্বর। প্রায় এক কোটি কর্মহীন মানুষ বর্ধিত এই বেকারভাতা দিয়ে সংসার চালাচ্ছে। এখন তাদের ত্রাহি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস দ্রুততার সঙ্গে বেকারভাতার মেয়াদ আরেক দফা বৃদ্ধি না করলে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের আপৎকালীন সব সহযোগিতা কর্মহীনদের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে এখন চলছে কোমর ভাঙা সরকার। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও পরাজয় না মানা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ করে আসছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অগ্রাধিকারের তালিকায় এখন ভুয়া ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাড়া অন্য কিছু নেই। এরই মধ্যে কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আপত্কালীন একটি প্রণোদনা আইন পাস করার চেষ্টা করছেন। জো বাইডেন জরুরিভিত্তিতে নাগরিকদের জন্য একটি প্রণোদনা আইন পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।