ক্ষমতায় আসার পর পরই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিধিগুলোর অনেকটাই পরিবর্তন করেছেন। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে ট্রাম্প সময়ে চালু হওয়া এ নিয়মটির পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষকদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করা হচ্ছে।

এডুকেশন সেক্রেটারি মিগুয়েল কার্ডোনা বলেন, ‘হোয়াইট হাউস এখন কর্মসূচির জন্য তহবিল বাড়িয়ে এবং শিক্ষকের ঘাটতি নিরসনে অন্যান্য নীতি গ্রহণ করে এটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে।’

২০১৫ সালে ফেডারেল ওয়াচডগ এজেন্সি তদন্ত করে দেখেছে, হাজার হাজার অনুদান ঋণে রূপান্তরিত হয়েছে। তারপরে উভয় পক্ষের আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত দ্য টিচ গ্রান্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রদত্ত অনুদানের প্রায় অর্ধেকই ঋণে রূপান্তরিত হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কেবল প্রাপকেরা তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুদান ঋণে পরিণত হয়েছে।

নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ায় এখন সাম্প্রতিক কলেজ স্নাতকদের আর শর্ত দেওয়া ফরমটি জমা দিতে হবে না। যেখানে লেখা থাকত স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার ১২০ দিনের মধ্যেই অনুদান গ্রহণকারীকে শিক্ষা প্রদান শুরু করতে হবে। তবে একবার পড়াতে শুরু করলে, তাঁদের শিক্ষকতায় নিয়োজিত এমন বিষয় প্রমাণ করতে বার্ষিক প্রতিবেদন অবশ্যই পূরণ করে জমা করতে হবে। নতুন নিয়মে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের অনুদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণে পরিণত হবে না।

গত সপ্তাহে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বিধিতে এখন অনুদানটি ঋণে পরিণত হওয়ার কারণ হবে যদি শিক্ষার্থীরা এটির জন্য অনুরোধ করেন। অথবা অনুদান গ্রহীতা আট বছরের সময়সীমার মধ্যে চার বছরের অধ্যাপনা শেষ করতে ব্যর্থ হন।

শিক্ষার্থীদের অনুদান যদি কোনো কারণে ঋণে পরিণত হয় তবে পুনর্বিবেচনার জন্য শিক্ষার্থীরা অনুরোধ জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বিভাগ শিক্ষার্থীদের বছরের কিছুটা অংশ কাজ করে থাকলেও, পুরো শিক্ষা বছরের জন্য ক্রেডিট দিতে পারে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর আমেরিকান ফ্যামিলি প্ল্যানের মাধ্যমে প্রোগ্রামটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব কলেজ জুনিয়র, সিনিয়র এবং সব স্নাতক শিক্ষার্থীদের অনুদানের আকার দ্বিগুণ করে আট হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।