বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ঘোষণার পর ডেমোক্রেটিক পার্টির উদারনৈতিক পক্ষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বিবৃতি দিয়ে এ বিষয়ে তাঁদের হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এমন সিদ্ধান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। নির্বাচনের আগে বাইডেনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শরণার্থী নেওয়ার সংখ্যা না বাড়ালে তা অভিবাসীবান্ধব নাগরিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে। এমন সমালোচনার মুখে বাইডেন তাঁর সিদ্ধান্তে বদল আনলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীপ্রবাহ সামাল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিক শরণার্থী গ্রহণের চাপ অভিবাসন বিভাগ গ্রহণ করতে পারবে না বলে গতকাল শনিবার উল্লেখ করেন বাইডেন। তিনি বলেন, তাঁরা একাধিক কাজ একসঙ্গে করতে পারবেন না। তবে আগের প্রশাসনের সময়ে গ্রহণ করা সংখ্যার চেয়ে বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিষয়টি নিয়ে তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বর্ষ সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। এ বছরের বাকি সময়ের মধ্যে প্রত্যাশা অনুযায়ী ৬২ হাজার ৫০০ জন শরণার্থী গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব না-ও হতে পারে।

শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমেরিকার প্রগতিশীল আন্দোলনের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

সারা বিশ্বে প্রতিবছর অনেক মানুষ নানা কারণে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়। এসব লোক কখনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে, কখনো ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে উদ্বাস্তুর সংখ্যা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তার মানবিক কর্মসূচির আওতায় বছরের পর বছর শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছিল। সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত মানুষের আশ্রয়ের অন্যতম জায়গা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে সরে আসে। তিনি বছরে ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের উদারনৈতিক রাজনৈতিক পক্ষ ও নাগরিক সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে উদারনৈতিক পক্ষগুলোর অবস্থানের জয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন