default-image

রোগীর সেবা করে চিকিৎসকেরা সুনাম অর্জন করেন। অর্থও পান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এক দন্ত চিকিৎসকের কপালে এর কোনোটাই জোটেনি। বরং তাঁকে যেতে হয়েছে শ্রীঘরে। এমনটা হবেই–বা না কেন? তিনি রোগীর দাঁত তুলেছিলেন হোভারবোর্ডে চড়ে। এ অপরাধসহ আরও কয়েকটি অপরাধের জন্য ওই দন্ত চিকিৎসককে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওই চিকিৎসকের নাম সেথ লুকহার্ট (৩৫)। হোভারবোর্ডে চড়ে লুকহার্ট রোগীর দাঁত তুলছেন, এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। ফোনে ধারণ করা ওই ভিডিও বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি নিজেই। ভিডিওতে দেখা যায়, দাঁত তোলার পর চিকিৎসক লুকহার্ট গ্লাভস খুলে বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে উল্লাস করছেন।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, আলাস্কার আইন বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, চিকিৎসায় প্রতারণা, অবৈধভাবে অনুশীলন ও বিপজ্জনকভাবে অস্ত্রোপচারের মতো ৪৬টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন লুকহার্ট। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত সোমবার বিচারক মাইকেল উলভারটন লুকহার্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট বছরের স্থগিত সাজা দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে লুকহার্টকে জেলে থাকতে হবে ১২ বছর। ১০ বছরের প্রবেশনকালে তিনি অনুশীলনও করতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

আলাস্কার আইন বিভাগ ওই বিবৃতিতে বলেছে, হোভারবোর্ডে চড়ে অস্ত্রোপচার করার চেয়ে লুকহার্টের অন্য অপরাধগুলো বড় করে দেখেছেন বিচারক উলভারটন। প্রশিক্ষণ বা রোগীর স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই কয়েক হাজার গুণ বেশি অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করে অনেক রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন এই চিকিৎসক। এ ছাড়া সরকারি স্বাস্থ্যবিমার অর্থ নয়ছয় এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সম্পদ জরবদখলও করেছেন তিনি।

রায় ঘোষণার আগে লুকহার্ট নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, রোগীর সেবা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরও সতর্কতার সঙ্গে ও যথাযথ শৃঙ্খলা মেনে করতে পারতাম আমি। এতে অনেক রোগীর ব্যথা ও কষ্ট লাঘব করা যেত।’

মন্তব্য পড়ুন 0