বিজ্ঞাপন

মঙ্গল অভিযানে যেতে ইচ্ছুক নভোচারীদের গ্রহটিতে যেতে হলে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ১৪ কোটি মাইল বা সাড়ে ২২ কোটি কিলোমিটার। যার অর্থ, এ অভিযানে তাঁদের মহাশূন্যে কাটিয়ে দিতে হবে মাসের পর মাস। এই দীর্ঘ সময়ে দুই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে তাঁদের। এর একটি হলো, তেজস্ক্রিয়তা; অন্যটি মাইক্রোগ্রাভিটি বা প্রায় শূন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি (যেখানে মানুষ বা কোনো বস্তু ভাসমান অবস্থায় থাকে)।
প্রথম ঝুঁকিতে আজীবন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ও দ্বিতীয়টিতে হাড়ের ঘনত্ব ও পেশির ভর কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে। আবার মঙ্গলে নামার পর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা ওই গ্রহে থেকেই তার সমাধান করতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, চাঁদ ও মহাকাশ স্টেশনের যাত্রা থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জেনেছেন তাঁরা। যেমন, হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোনাথন ম্যাকডোয়েল বলেন, ‘আমরা দেখেছি, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা মহাকাশযানে একজন নভোচারী দেড় বছর বেঁচে থাকতে সক্ষম।’ তিনি বলেন, মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর মিশন কীভাবে কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে কিছু সাধারণ ধারণা আমাদের সামনে রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।’

মহাকাশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রালিটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রহবিজ্ঞানী লরা ফোর্সজিক বলেন, মঙ্গলের দীর্ঘযাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা হ্রাসের একটি উপায়, যাত্রাপথকে অধিকতর দ্রুতগতিতে পাড়ি দেওয়া। আরেকটি উপায়, পানির বেশ কিছু কনটেইনার যুক্ত নভোযান তৈরি; যে কনটেইনারগুলো মহাকাশ থেকে বিচ্ছুরিত তেজস্ক্রিয়তা শুষে নিতে পারবে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, মঙ্গলে পৌঁছানোর পর সেখানকার ৯৫ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড সংবলিত বায়ুমণ্ডলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার পথ বের করতে হবে। ‘পাসিভিআরান্স একটি যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে যা কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অক্সিজেনে রূপান্তর করতে সক্ষম। শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য আরও একটি উপায় হলো, গ্রহটির মেরু অঞ্চলে থাকা বরফকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনে ভেঙে ফেলা। এটি রকেটের জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগবে।

মঙ্গলে তেজস্ক্রিয়তা আরেক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। কেননা, এটির খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বকীয় স্তরের সুরক্ষা ঘাটতিতে নভোচারীর আশ্রয়স্থলকে হতে হবে ভালোভাবে সুরক্ষিত; এমনকি তা মঙ্গলের মাটির নিচেও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন