default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নড়েচড়ে উঠছেন। আমেরিকার রক্ষণশীলরা তাঁদের টিকে থাকার লড়াইয়ে ট্রাম্পকে সামনে নিয়ে আসছেন। রক্ষণশীলদের সংগঠন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বক্তব্য দেবেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় রক্ষণশীল আমেরিকানদের এ সভায় উপস্থিত হচ্ছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতি ও রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প এ সভায় কথা বলবেন বলে জানানো হয়েছে।

গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেওয়ার পর কার্যত নীরবই ছিলেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় সমাবেশে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাবাদর্শের মূল নেতা হিসেবে এখনো সামনের সারিতে আছেন। ধারণা করা হয়েছিল, চার বছরের বেপরোয়া রাজনীতি করে আমেরিকায় যে অস্থির অবস্থা তিনি সৃষ্টি করেছিলেন, তা থেকে বেরিয়ে আসবে মার্কিন রাজনীতি। কার্যত তা হচ্ছে না। আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বিকল্প হিসেবে কোনো রিপাবলিকান নেতার এগিয়ে আসার লক্ষণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের দেশগুলোয় অভিবাসনবিরোধিতা এখন চরমে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর অভিবাসননীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলরা মনে করেন, ট্রাম্পই তাঁদের শেষ ভরসা। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধিতার মধ্য দিয়ে আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলদের আধিপত্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতিকে আক্রমণ করার জন্য তাঁর অভিবাসননীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ট্রাম্প। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিউজম্যাক্স টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নিয়ে ইঙ্গিতও দেন।

নিউজার্সির প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব ম্যানেন্ডেজ ইতিমধ্যে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। কংগ্রেসে উপস্থাপনের আগেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্প এই বিতর্কে যে এগিয়ে আসবেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আমেরিকার সাম্প্রতিক অভিবাসননীতিতে পারিবারিক অভিবাসন ও দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের প্রবাহকে উল্লেখযোগ্য মনে করা হয়। এগুলো বন্ধ করাকেই ট্রাম্প তাঁর সময়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। পারিবারিক অভিবাসন বন্ধ করতে পারলে আমেরিকায় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে লোকজনের আসা সীমিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এ কাজে সফল হতে পারেননি ট্রাম্প।

ফ্লোরিডার সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনীতির আলোচিত বিষয় অভিবাসনকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিবাসনের বর্তমান বাস্তবতা আগের শতকের চেয়ে ভিন্ন। অভিবাসনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। সারা বিশ্বের কাছে শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের অবদানকে বড় করে দেখা হয়। অভিবাসনের প্রবাহ বন্ধ করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।

নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকেরা জড়ো হয়েছিলেন ট্রাম্পের উসকানিতে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শেষ সাংবিধানিক কার্যক্রম চলার সময় তাঁর সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালান। এই হামলায় পাঁচজন নিহত হন।

ক্যাপিটল হিলে হামলার জেরে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হয়। পরে সিনেটে অভিশংসন আদালত বসেন। সিনেটের অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, ট্রাম্প উসকানি দিয়ে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই সহিংসতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য ক্যাপিটল হিলে হামলা করা হয়েছে। ট্রাম্প-সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে ঢোকার পর তাঁর আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি আইনপ্রণেতাদের নির্বাচনের ফলাফল প্রণয়নের প্রক্রিয়া ধীরে করার জন্যও বলেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি অভিশংসন আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট সদস্য ট্রাম্পের দণ্ডের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পড়ায় অভিশংসন দণ্ড থেকে অব্যাহতি পান ট্রাম্প। আগেও একবার সিনেটের অভিশংসন আদালতে দণ্ড থেকে রেহাই পান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন