বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নতুন গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষকেরা যে ফল পেয়েছেন তাকে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

টিকা প্রয়োগের নতুন এই কৌশল সিরিঞ্জ নিয়ে ভয় দূর করার পাশাপাশি টিকা বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্যাচেসের ক্ষেত্রে টিকা সংরক্ষণের জন্য শীতল তাপমাত্রার প্রয়োজন হবে না।

অস্ট্রেলীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের দল যৌথভাবে এই প্যাচেস আবিষ্কার করেছে। প্রতিটি প্যাচেসের আকার এক বর্গসেন্টিমিটার। এতে পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র স্পাইক ছিদ্র করে দেওয়া থাকবে। গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ও কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডেভিড মুলার বলেন, ‘এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে সত্যিকার অর্থে আপনারা তা দেখতেই পাবেন না।’

ছোট একটি যন্ত্র ব্যবহার করে ওষুধের প্রলেপযুক্ত প্যাচেস ত্বকের ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে। মুলার জানান, প্যাচেস লাগানোর সময় ত্বকে ঝাঁকুনি হতে পারে।

গবেষকেরা প্যাচেস নিয়ে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। কিছু ইঁদুরের শরীরের ওষুধযুক্ত প্যাচেস দুই মিনিট করে লাগিয়ে রাখা হয়। আর কিছু ইঁদুরের শরীরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়। দেখা গেছে, যে ইঁদুরগুলোকে প্যাচেস ব্যবহার করে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

গবেষক মুলার আরও বলেন, টিকা মূলত আমাদের পেশিতে প্রয়োগ করা হয়, তবে ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোষ পেশিতে থাকে না। অন্যদিকে প্যাচেসের মাধ্যমে ক্ষুদ্র স্পাইক ত্বকের যেখানে বসানো হবে সে এলাকার ত্বক মরে যাবে। আর তা শরীরকে সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক করে দেবে। আর এতে অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।

গবেষকেরা জানান, শুষ্ক প্রলেপযুক্ত প্যাচেস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কমপক্ষে ৩০ দিন ভালো থাকবে। আর ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এটি সংরক্ষণ করা যাবে এক সপ্তাহ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই প্যাচেস সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

মুলার আরও বলেন, ‘এটি ব্যবহার করা খুব সহজ। এটি প্রয়োগের জন্য উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীর প্রয়োজন পড়বে না।

এ গবেষণায় ব্যবহৃত প্যাচেস তৈরি করেছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ভাক্সাস। আগামী এপ্রিল থেকে মানবদেহে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মাইক্রোন বায়োমেডিকেল এবং ভাক্সেস নামের দুটি মার্কিন কোম্পানিও প্যাচেস তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এর মধ্যে ভাক্সেস ক্ষুদ্র সুইযুক্ত ভিন্ন ধরনের প্যাচেস তৈরির চেষ্টা করছে। এটি ত্বকে মিশে যাবে। তাদের দাবি, এমনটা করা সম্ভব হলে প্রতি প্যাচে ব্যবহৃত স্পাইকের পরিমাণ কমিয়ে আনা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন