default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তাঁর প্রতিপক্ষদের তৃতীয়বারের মতো পরাজিত করবেন। সরাসরি ঘোষণা না দিলেও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর হায়াত রিজেন্সি হোটেলে গত বৃহস্পতিবার রক্ষণশীলদের সম্মেলন শুরু হয়। গতকাল রোববার সম্মেলনের শেষ দিনের বক্তা ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগের টানা তিন দিন রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন। মঞ্চ গরম করেন ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়র। রক্ষণশীল সিনেটর টেড ক্রুজসহ রিপাবলিকান পার্টির নানা পর্যায়ের লোকজনও সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নতুন কোনো দল গঠন না করবেন না। এসব ভুয়া খবরওয়ালাদের প্রচারণা।

ট্রাম্প বলেন, রক্ষণশীল আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে কংগ্রেসের দখল নেবে রিপাবলিকান পার্টি। আর ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউসও নিয়ন্ত্রণে আসবে রিপাবলিকান পার্টির।

অনুমান করুন, ২০২৪ সালে কে প্রেসিডেন্ট হবেন—এমন প্রশ্ন সম্মেলনে বারবার করতে থাকেন ট্রাম্প। উপস্থিত সমর্থকেরা জবাবে ‘ট্রাম্প, ট্রাম্প’ বলে স্লোগান দেন।

১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আমেরিকার রক্ষণশীলদের প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স (সিপ্যাক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। রক্ষণশীল ঘরানার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক চাঁদাদাতাদের এই সম্মেলন রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রায় বিকল্পহীন হয়ে উঠেছে। আগে কখনো সিপ্যাক সম্মেলন কোনো একক রিপাবলিকান নেতাকে ঘিরে হয়নি। ২০১৬ সালের সিপ্যাক সম্মেলনে ট্রাম্প উপস্থিতই ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ের আগে তাঁকে রিপাবলিকান পার্টির কোনো নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে মনে করা হয়নি। কিন্তু আমেরিকার রাজনীতিতে রক্ষণশীলতা ও বিভাজন এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে এবারের সিপ্যাক সম্মেলন কার্যত ট্রাম্পকে ঘিরেই হয়েছে।

নানা নাটকীয়তার পর গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়েন ট্রাম্প। ক্ষমতা ছাড়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার এ লাগোতে অনেকটাই চুপচাপ সময় কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হিলে হামলার দায় নিয়ে সিনেটে অভিশংসন আদালতের কাজ চলে। ২০ জানুয়ারির পর ট্রাম্প নিজে নীরব থাকলেও তাঁকে নিয়ে সরগরম ছিল পুরো আমেরিকা। অভিশংসন আদালতের দণ্ড থেকে মুক্তি পেয়ে ট্রাম্প আবার সরব হয়ে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মাথায় আবার রাজনীতির মঞ্চ গরম করার প্রয়াস নিলেন। হোয়াইট হাউসে আসা নতুন প্রেসিডেন্টের সমালোচনাও করলেন ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে।

রক্ষণশীলদের এই সম্মেলনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার গত নির্বাচনে তাঁর জয় হয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতি উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন দেখা যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চার বছর আগে যে মহান যাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম, তা শেষ হয়ে যায়নি।’

দেশের ভবিষ্যৎ, দলের ভবিষ্যৎ ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছেন বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘ফেক নিউজ’ প্রচার করছে যে তিনি দল গঠন করতে চান।

বিভক্ত হয়ে পড়লে আর জয়ী হওয়া যাবে না উল্লেখ করে ট্রাম্প নিজে নতুন দল গঠন করার কথা উড়িয়ে দেন। গত নির্বাচনে তাঁর জয়ের ভুয়া দাবি নতুন করে উচ্চারণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালে তৃতীয়বারের মতো তাদের পরাজিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, বাইডেন প্রশাসন কতটা খারাপ করবে। বাইডেন প্রশাসন কতটা বাম দিকে চলে যাবে, তা আমাদের ধারণারও বাইরে।’ ট্রাম্প এ কথা বলার সময় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা ব্যাপকভাবে হাততালি ও স্লোগান দিয়ে তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেন।

ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অভিবাসননীতি শুধু বেআইনিই নয়, তা অনৈতিক, হৃদয়হীন ও আমেরিকার মূল চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বাইডেন প্রশাসন আমেরিকার স্কুলগুলো খুলে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর অনেকটাই উৎফুল্ল ভাব নিয়ে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, এই সমাবেশের সাহসী রিপাবলিকানরাই আগামী চার বছর নৈরাজ্যবাদী ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে। এসব সাহসী রিপাবলিকানই ফেক নিউজ ও তাদের বাতিল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। এই লড়াইয়ে তিনি পাশে থাকবেন বলেন উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘জয়ের জন্য যা প্রয়োজন, আমরা তা–ই করব।’

সিপ্যাকের সমাবেশে বেশ কিছু রক্ষণশীল নেতার বক্তৃতাও ছিল ট্রাম্পের অনুরূপ। আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়নের চেয়ারপারসন ম্যাট স্ল্যাপ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কী ঘটেছিল, তা তলিয়ে দেখার প্রথম সুযোগ এনে দিয়েছে এই সিপ্যাক সম্মেলন। বড় বড় নগরীতে ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জুডিশিয়াল ওয়াচ নামের আরেকটি রক্ষণশীল সংগঠনের প্রধান টম ফোটন বলেন, নির্বাচনের দিন জয়ের জন্য পর্যাপ্ত ভোট ট্রাম্পের ছিল। কিন্তু নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক তৎপরতার মাধ্যমে ট্রাম্পকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে।

রিপাবলিকান পার্টিতে ট্রাম্পই এখন মূল নেতা। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পকে ঘিরেই এগিয়ে যেতে চায়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে এখন অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটিক পার্টি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টি কবজা করতে পারলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য ক্ষমতার শেষ দুই বছর জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে আমেরিকার রাজনীতিকে অস্থির করে তোলা ট্রাম্প ভবিষ্যতে যে সক্রিয় অবস্থানে থাকবেন, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন