Thank you for trying Sticky AMP!!

ঢাবির যে গাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন কেনেডি

বসন্ত ও বন্ধুত্ব উদ্‌যাপন করতে বটতলায় দলীয় নৃত্য। আয়োজনে ইএমকে সেন্টার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি। ছবি: আবদুস সালাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলার ডান দিকের বিশাল বটগাছকে ঘিরে সাজানো হয়েছে মঞ্চ। গাছটিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল ফিতা দিয়ে। সাজানো হবেই বা না কেন! আজ বৃহস্পতিবার গাছটিরই তো জন্মদিন। সেই জন্মদিন পালন করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইএমকে সেন্টারের এত আয়োজন।

১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাছটি লাগিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম. কেনেডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণও দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে এই মার্কিনির ভূমিকা চিরস্মরণীয়। সে সময় মার্কিন সরকার এ দেশের মানুষের পাশে না দাঁড়ালেও দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি এই ভূখণ্ডে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে আসতে দেয়নি পাকিস্তানের সামরিক সরকার। তিনি গেলেন ভারতে। নিজের চোখে দেখলেন লাখ লাখ উদ্বাস্তু বাঙালিকে। বুঝতে চাইলেন বাঙালির দুর্দশা। পরে দেশে ফিরে সবাইকে জানালেন, বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে। তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে শুধু মার্কিনিরাই নয়, বিশ্ববাসীও জানতে পারল আসলেই কি চলছে বাংলাদেশে।

উৎসবে গান করছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া।

বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করা হলো কেনেডির বটগাছ রোপণের ৪৭তম বর্ষপূর্তি। বটতলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করে সুরের ধারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা ও সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। ইএমকে মেকারল্যাবের ডিজিটাল সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল কাঙালিনী সুফিয়ার মতো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর পরিবেশনা।

শিল্পীদের ধ্রুপদি নৃত্য পরিবেশনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি। ছবি: আবদুস সালাম

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপারসন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ইএমকে সেন্টারের পরিচালক নাভিদ আকবর, ইএমকে সেন্টারের সাবেক পরিচালক এম. কে. আরেফ প্রমুখ।

বটতলার মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন।

এখানে আগেও একটি বটগাছ ছিল বলে এম. কে. আরেফ জানান। ১৯৭১ সালে গাছটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ঐতিহাসিক দিক থেকেও গাছটির গুরুত্ব ছিল। ছয় দফা বাস্তবায়ন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা এই বটতলা থেকে মিছিল বের করে।

পাহাড়ি নৃত্য পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি। ছবি: আবদুস সালাম

২০১২ সালে ঢাকার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইএমকে সেন্টার। মজার বিষয় হলো, ইএমকে সেন্টারের যে লোগো, সেখানে গাছের প্রতীকী ছবিটি ব্যবহার করা হয়। আজকের দিনটি ইএমকে দিবস হিসেবেও পালিত হয়েছে।