বাংলাদেশ

সম্পদ ও শিক্ষা দুটিই বেড়েছে জ্যাকবের

আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাংসদ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে বহু। পাঁচ বছর আগে যেখানে তাঁর কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা কোম্পানির শেয়ার ছিল না, সেখানে এবার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ৪৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৪ টাকার ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ১২ কোটি টাকার (মধুমতি ব্যাংক)।
গতবার যেখানে নিজের নগদ টাকা ছিল ১২ লাখের কিছু বেশি, সেখানে এবার নিজের ও স্ত্রীর নগদ অর্থ হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। তেমনি হয়েছে দামি গাড়ি। বেড়েছে কৃষিজমি। পাঁচ বছর আগে জ্যাকব শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছিলেন এইচএসসি, এবার দেখিয়েছেন এমএসএস।
নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে তুলনামূলক এসব তথ্য মিলেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
হলফনামায় জ্যাকব এবার তাঁর বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকানভাড়া থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ তাঁর আয় ছিল ৭২ হাজার টাকা। তখন ব্যবসায় আয়ের ছকে বলেছিলেন, আয়কর আইন (আইটি রুল) অনুযায়ী ব্যবসা শুরুর পরবর্তী বছর প্রদর্শিত হবে। আর এ বছরের হলফনামায় মৎস্যসহ ব্যবসায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ১১ লাখ পাঁচ হাজার ৯৪৪ টাকা। এবার সাংসদ হিসেবে সম্মানী ভাতা তিন লাখ ৩০ হাজার (করযোগ্য) ও ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫ টাকা (করমুক্ত) দেখিয়েছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে নগদ এক কোটি ৮৭ লাখ ২১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে এক কোটি চার লাখ ৯২ হাজার ৬৭৭ টাকা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নিজের নামে নগদ ছিল ১২ লাখ তিন হাজার ২৮৫ টাকা। তবে স্ত্রীর নামে কোনো নগদ টাকা ছিল না। এবার জ্যাকবের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১৪ লাখ ২৬ হাজার ১৩৯ টাকা।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজের ৬১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার একটি গাড়ি আছে। স্ত্রীর আছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের গাড়ি। গত নির্বাচনের আগে বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেলের বিবরণীতে সাত লাখ টাকা মূল্যের কথা উল্লেখ আছে। গতবার নিজের স্বর্ণসহ অলংকারাদি ছিল ২০ তোলা, এবার নিজের হয়েছে ৫০ তোলা (উপহার) ও স্ত্রীর ৩০ তোলা (উপহার)।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে এবার কৃষিজমি দেখিয়েছেন ৩ দশমিক ২৬ একর। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৬০ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকা। গতবার তিনি কোনো কৃষিজমি দেখাননি। অকৃষিজমির মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৭১ শতাংশ ছাড়াও এবার রাজউকের প্লট যোগ হয়েছে (মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ লাখ টাকা)। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশনে একটি দালান এবং ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট আছে তাঁর। গতবারও তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ঢাকার দুটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
হলফনামায় জ্যাকবের এবার দায়ের মধ্যে ব্যাংকঋণ দুই লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৬ টাকা ও ফ্ল্যাট বিক্রয় বাবদ অগ্রিম প্রাপ্তি আট কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
ভোলার স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের আয়েশাবাদ মৌজায় উপকূল ব্রিকস ও মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে মনপুরা ব্রিকস নামে দুটি ইটভাটা রয়েছে জ্যাকবের। তবে জ্যাকব একটি ইটভাটা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ আছে, এ ভাটার কাঠ জোগাতে কুকরিমুকরি ম্যানগ্রোভ বনের ও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা হচ্ছে।
চরফ্যাশন কলমী ইউনিয়নে ৫০ একর জমির ওপর জেনিক ফিশারিজ ও অ্যাওয়াজপুর ইউনিয়নের ৩৫ একরের খামারবাড়িও তাঁর। এলাকায় প্রচারিত পোস্টারে সাংসদের দাবি, চরফ্যাশন-মনপুরায় এক হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। অভিযোগ আছে, অধিকাংশ উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি সাংসদ নিজেই অন্যের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে সাংসদ জ্যাকব গতকাল প্রথম আলোকে জানান, তাঁর সব সম্পত্তি বৈধ। কোনো কিছু তিনি গোপন করেননি। পৈতৃক সম্পত্তিতে ফ্ল্যাট তৈরি করে তিনি সাড়ে আট কোটি টাকার কিছু বেশি পেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর এমব্রয়ডারি ও মৎস্য ব্যবসা আছে।