বাংলাদেশ

সুবর্ণ নয় পাচ্ছে তিস্তা

দেশের প্রথম বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে নতুন বগি যুক্ত করে আজ বুধবার থেকে যাত্রী পরিবহনের কথা ছিল। এ ব্যাপারে রেল ভবন থেকে আদেশও জারি হয়। তবে সেই আদেশ স্থগিত করে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন বগি ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথের তিস্তা এক্সপ্রেসকে দেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বগিগুলো সুবর্ণকে দেওয়া হলে ট্রেনটি আরও জনপ্রিয় হতো। এ ছাড়া রেলের আয়ও বাড়ত।
১৩ আগস্ট রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, ৭০১/৭০২ নম্বর (সুবর্ণ এক্সপ্রেস) ট্রেনের বর্তমান রেক কম্পোজিশন (ইঞ্জিনযুক্ত একটি ট্রেনের সব বগিকে রেক বলা হয়) পরিবর্তন করে ইন্দোনেশিয়ার নতুন কোচ দিয়ে ট্রেনের রেক প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ২৪ আগস্ট (আজ বুধবার) থেকে চলাচল করবে। পরে ১৮ আগস্ট আরেকটি আদেশে এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
রেলের কর্মকর্তারা বলেন, সুবর্ণ এক্সপ্রেসের জন্য ইন্দোনেশিয়ার তৈরি ১৬ বগি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন বগিগুলো ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) রেলপথে চলা তিস্তা এক্সপ্রেসকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়ার তৈরি ১০০টি নতুন বগির রেক কম্পোজিশন তৈরি করে ২ আগস্ট একটি আদেশ জারি করে রেল ভবন। নতুন বগিগুলো সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, উপবন/জয়ন্তিকা, মহানগর/তূর্ণা এবং তূর্ণা/মহানগর ট্রেনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে ৫৯ নতুন বগি ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছে। এর মধ্যে গত ২৬ জুন নতুন ১৬ বগি দিয়ে দেশের দ্বিতীয় বিরতিহীন ট্রেন সোনার বাংলা চালু করা হয়েছে। ট্রেনটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রী পরিবহন করছে। নতুন ১৬টি বগি দিয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে তিস্তা যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে।
জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তাই ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য নতুন কোচ (বগি) দিয়ে তিস্তা এক্সপ্রেসকে সাজানো হবে। আমরা ইন্দোনেশিয়ার তৈরি কোচ দিয়ে তিস্তা চালাব। সুবর্ণ এক্সপ্রেস পুরোনো বগি দিয়ে আপাতত চলবে।’
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের আসনসংখ্যা ৮৯৯। অন্যদিকে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের আসনসংখ্যা ৯৭১। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নতুন বগি দিয়ে সুবর্ণের রেক সাজানো হলে ট্রেনটি আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠত। রেলের আয়ও বাড়ত। তিস্তা এক্সপ্রেসের এসি চেয়ারের ভাড়া ৪২৬ টাকা ও শোভন চেয়ারের ১৮৫ টাকা। অন্যদিকে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের এসি চেয়ারের ভাড়া ৭২৫ টাকা ও শোভন চেয়ারের ৩৮০ টাকা। ফলে তিস্তার পরিবর্তে সুবর্ণ এক্সপ্রেসকে বগি দেওয়া হলে আয় বাড়ত।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের সব অঞ্চলের প্রতি সমান নজর রাখা উচিত। আমরা সুবর্ণকে নতুন কোচ দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু ময়মনসিংহ ও জামালপুরের প্রতিও আমাদের নজর দিতে হচ্ছে। তাই পুরোনো কোচ দিয়ে সুবর্ণ চলুক। পরে আরও নতুন কোচ এলে আমরা তা সুবর্ণের জন্য বরাদ্দ দেব।’