বাংলাদেশ

'বন্দুকযুদ্ধ' নিয়ে এখন উল্টো সুর মুজিবুলের

মুজিবুল হক চুন্নু

ধর্ষণকারীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার দাবি জানানোর কয়েক দিনের মাথায় জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক বলেছেন, তাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেন না। ধর্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এর আগে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক এসব কথা বলেন। এর আগে ১৪ জানুয়ারি ধর্ষণকারীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

এবার মুজিবুল হক বলেন, তিনি ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে বন্দুকযুদ্ধের কথা বলেছিলেন। মানবাধিকারকর্মীসহ অনেকে এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

বিরোধী দলের এই সাংসদ বলেন, ‘আসলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আমরা সাপোর্ট করি না। এটা গুরুত্বের জন্য বলেছিলাম।’

মুজিবুল হক বলেন, এখন ধর্ষণের বিষয়টি সবচেয়ে বড় ব্যাধি। গত এক বছরে ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তিনি আইনের আমূল পরিবর্তন আনার দাবি জানান।

জাপার এই সাংসদ আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, দেখার কেউ নেই। ব্যাংক পরিচালকেরা নিজেদের ব্যাংক থেকে, অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। ২৫টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকেরা ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছেন ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর তাঁরা পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এর চেয়ে বড় ব্যবসা আর কী হতে পারে।

মুজিবুল হক বলেন, এনন টেক্স ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি করেছে। এনন টেক্সের মালিক ইউনূস বাদল নিজেই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক, কিন্তু দেখানো হয়েছে বিদেশি কোম্পানি। এই ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের এমডি আবদুস ছালামের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে তিনি সহায়তা করেছেন।

জাতীয় পার্টির এই সাংসদ আরও বলেন, ‘আমি জানি না বাংলাদেশ ব্যাংক কী করে। অর্থ মন্ত্রণালয় কী করে। এই ঋণগুলো এমনি এমনি যায় না। নিয়মের মধ্যে পড়ে। এই নিয়ম কে দেখে, কে দেখে না, বুঝি না।’

মুজিবুল হক বলেন, উন্নয়ন হয় ঠিক আছে। কিন্তু অনেক দুর্নীতিও হয়। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল। তবে কিছুদিন চলার পর আর কোনো খবর নেই। বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজনও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কি একাই ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন প্রশ্ন রেখে মুজিবুল হক বলেন, পুলিশ, প্রশাসনসহ যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। গত ১৫ থেকে ২০ বছর যাঁরা মন্ত্রী, সাংসদ এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁদের সবার সম্পদের হিসাব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সাংসদ শফিকুর রহমান বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন। প্রকাশ্যে আদালতে তাঁর বিচার হয়েছে। মিজানুর রহমান আজহারী ও তারেক মনোয়ার নামের দুজন বলছেন, ঘরে ঘরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বেরিয়ে আসবে। শুধু তা–ই না, একজন বলছেন, এখন আর তির–ধনুকের যুগ না, এখন এ কে ৪৭–এর যুগ। এটি প্রচ্ছন্ন নয়, প্রকাশ্য হুমকি।

এ বক্তব্যের পর স্পিকারের আসনে থাকা ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ইউটিউবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য আসছে। এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের এ কে এম ফজলুল হক, ইকবাল হোসেন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।