আহতদের চিকিৎসায় ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড

কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় আহত আলামুন নাহার অ্যানিকে গতকাল বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।  ছবি: প্রথম আলো
কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় আহত আলামুন নাহার অ্যানিকে গতকাল বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ছবি: প্রথম আলো

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস–বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ১৩ জন চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এই বোর্ড গঠন করেছে।

বোর্ডের বাকি ১২ সদস্য হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক মো. আবুল কালাম, বিভাগীয় প্রধান সাজ্জাদ হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের পরিচালক মো. ফারুক আলম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের রায়হানা আউয়াল, রেসপিরেটোরি মেডিসিন বিভাগের মহিউদ্দিন আহমেদ, সার্জারি বিভাগের প্রধান এ জেড এম মোস্তাক হোসেন তুহিন, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান মো. শামসুজ্জামান, অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের মোজাফফর হোসেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের মো. জাহাঙ্গীর কবির, মানসিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের জহির উদ্দিন ও সাইকিয়াট্রিক জামাল হোসেন।

আজ শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে মেডিকেল বোর্ডটি গঠন করা হয়। এরপর সাংবাদিকদের বোর্ড গঠনের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিরা এখন শারীরিকভাবে আশঙ্কামুক্ত। তবে তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই মেডিকেল বোর্ডে মানসিক চিকিৎসকও রাখা হয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান সামন্ত লাল সেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল রোববার থেকে মেডিকেল বোর্ড আহত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ শুরু করবে।

১২ মার্চ সোমবার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজ। এ ঘটনায় ৫১ যাত্রী নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। এ দুর্ঘটনায় আহত হন ১০ বাংলাদেশি। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম দেশে আনা হয় শেহরিন আহমেদ নামের এক যাত্রীকে। এরপর গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরে আসেন আহত তিন যাত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরের বাসিন্দা সৈয়দ কামরুন্নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি ও মেহেদি হাসান। তাঁদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আজ দেশে আসবেন দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী রাশেদ রুবায়েত। অন্য আহত ইমরানা কবির হাসির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে।