ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘ্নকারী, বললেন কয়েকজন আইনজীবী
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে। এতে কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে না। প্রস্তাবিত আইনটি আসলে ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘ্নকারী আইন। তাই সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করতে হবে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ শনিবার এক আলোচনা সভায় কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবী এ কথা বলেন। ‘মৌলিক অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি’।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি গত ৯ এপ্রিল বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শাহ্দীন মালিক বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি ভয়াবহ। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপরিপন্থী আইন। আসলে এর উদ্দেশ্য হলো কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া।
প্রস্তাবিত আইনকে ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘ্নকারী আইন উল্লেখ করে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সারা হোসেন বলেন, এই আইন নিয়ে শুধু সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করলে হবে না। আইনটি পাস করার আগে সবার সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারায় ভেঙে ভেঙে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। লুটপাটের জন্য এই আইন করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এই আইনের মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেন না থাকে, সে দিকেই যাওয়া হচ্ছে।
নারীনেত্রী শিরীন হকের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ আহম্মেদ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ আরও কয়েকজন।