খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ছাড়াও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরাও। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি প্রচারণা চালাতে গিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, এ রকম কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।
খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রথম দিকে কিছুটা সংশয় থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। প্রচার-প্রচারণা নির্বিঘ্ন করার ব্যাপারে প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তাঁরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রার্থীরা ভোট চাইতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জেলায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। অপর দিকে আঞ্চলিক দলের প্রার্থীরা আদিবাসীদের অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে-বাইরে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
জাতীয় সংসদের (২৯৮ নম্বর) খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও দুটি আঞ্চলিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ, আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসিত বিকাশ খীসা ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা। প্রার্থী হিসেবে উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমার নাম থাকলেও তিনি নির্বাচন করছেন না। তিনি প্রসিত বিকাশ খীসার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা কয়েক দিন থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একেক দিন একেক উপজেলায় গিয়ে জনসংযোগ করছেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা সমন্বয় কমিটি সদস্য আশুতোষ চাকমা ও নির্মল চৌধুরী বলেন, প্রচারে বড় ধরনের কোনো বাধা ইতিমধ্যে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁরা অভিযোগ করেন, জেলার প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় আঞ্চলিক দলগুলো তাঁদের কর্মীদের বিশেষত পাহাড়ি নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। রাতের আঁধারে তাঁদের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন তাঁরা।
জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ রীতিমতো গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। জানতে চাইলে তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি আবদুল্লাহ মিয়া গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আজ প্রার্থী গাড়ির বহর নিয়ে মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলায় জনসংযোগ চালাচ্ছেন। প্রচারকাজ নির্বিঘ্নে চলছে। প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
প্রচারকাজ নির্বিঘ্নে চালাতে পেরে সন্তুষ্ট ইউপিডিএফও। সংগঠনটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা বলেন, ‘প্রচারকাজে আমরা এখনো বড় ধরনের বাধা পাইনি। তবে তফসিল ঘোষণার পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দুই উপজেলার নয়জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা রীতিমতো গাড়িবহর নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি।