দীঘিনালায় যুবক হত্যার ঘটনায় মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার পোমাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুজাতা চাকমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন। অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএস (এমএন লারমা) পক্ষ ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। আর ইউপিডিএফ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম (৩৫)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩১টি গুলির খোসা, একটি তাজা গুলি ও দুটি ব্যবহার করা গুলি উদ্ধার করেছে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাবুছড়া এলাকায় লাশ দাফন করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিয়েছে। 


মঞ্জুর আলমের শ্বশুর বুদ্ধ রঞ্জন চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মেয়েজামাই আগে একটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও, কয়েক বছর ধরে দল ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছিলেন।

মঞ্জুর আলমের কয়েকজন স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মঞ্জুর আগে আঞ্চলিক দল জেএসএস (এমএন লারমা) পক্ষের হয়ে কাজ করলেও, কয়েক বছর আগে দল ছেড়ে দেন। মাছ চাষ, কাঠ ব্যবসা ও বাগান নিয়েই তিনি ব্যস্ত ছিলেন।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার আগে মঞ্জুরসহ আরও পাঁচজন পোমাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসে তাস খেলছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, যাঁদের সঙ্গে বসে তিনি তাস খেলছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ দুর্বৃত্তদের তথ্যদাতা হিসেবে ছিলেন। ওই ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। হত্যার ঘটনায় থানায় তাঁর স্ত্রী সুজাতা চাকমা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) পক্ষের কেন্দ্রীয় সহকারী তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঞ্জুর আলম আমাদের সমর্থক ও সহযোগী ছিলেন। আমাদের কোনো কর্মী ছিলেন না। ইউপিডিএফের সশস্ত্র লোকজনই তাঁকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করেছে।’

এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা খুবই দুঃখজনক। আমরাও চাই, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলা সদর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পোমাংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গুলি করে মঞ্জুর আলমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সুরতহালে তাঁর শরীরে ২৩টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।