পরীক্ষার সনদ সত্যায়িত করতে গিয়ে...

পাঁচ তারকা হোটেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে আবেদন করতে হবে। তাই এক যুবক বিভিন্ন পরীক্ষার সনদের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে সরকারি কর্মকর্তার কাছে যান। তবে একটি তথ্য দেখে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
পুলিশ বলছে, ওই যুবকের সনদগুলো ভুয়া। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। সনদের যে তথ্যে সত্য বেরিয়ে আসে, তা হলো ওই যুবক ২০০৫ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন। আর তাঁর এসএসসির (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) সনদে পাসের সাল ২০০৩!
বুধবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়। আটক হওয়া যুবকের ভাষ্য মতে, তাঁর নাম মিজানুর রহমান (২৮)। বাড়ি জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায়।
পুলিশ ও নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন সনদের ফটোকপি সত্যায়িত করতে সেখানে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁকে মূল সনদগুলো দেখাতে বলেন। সনদ অনুযায়ী মিজানুর স্নাতক পাস করেছেন। মূল সনদে দেখা যায়, তিনি হবিগঞ্জের দিনারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন। আবার ২০০৩ সালে দিনারপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) ও ২০০৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক পাস করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৫ সালে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ২০০৩ সালে এসএসসি ও ২০০৫ সালে এইচএসসি পাসের সনদ দেখে সন্দেহ হয়। এটা কীভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে ওই যুবক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরই মধ্যে তিনি সব সনদ জাল স্বীকার করে পায়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে পুলিশ ডেকে এনে তাঁকে তাদের হাতে তুলে দিই।’
আহসান ইকবালের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, ওই যুবক ইচ্ছে করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির তথ্যসংবলিত কাগজটি দেখাননি। অন্যান্য সনদের মূল কপিগুলো খাম থেকে বের করতে গেল কাগজটি হাত ফসকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় আহসান ইকবাল বিষয়টি খেয়াল করেন।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর জাল সনদ দিয়ে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদে চাকরির আবেদন করতে চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর নাম-ঠিকানা সঠিক কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা হবে।’