সহজ যোগাযোগব্যবস্থা বদলে দিল দৃশ্যপট

>

 মোহাম্মদী হোমস আবাসিক এলাকায় দেড় দশকে জমির দাম বেড়েছে ১৩ গুণ। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো, তবে মশার সমস্যা স্থায়ী রূপ পেয়েছে।

মোহাম্মদী হোমস আবাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ ভালো। প্রবেশের জন্য চারটি ফটক, রয়েছে সার্বক্ষণিক প্রহরী। শনিবার একটি ফটকের সামনে থেকে তোলা দৃশ্য।  প্রথম আলো
মোহাম্মদী হোমস আবাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশ ভালো। প্রবেশের জন্য চারটি ফটক, রয়েছে সার্বক্ষণিক প্রহরী। শনিবার একটি ফটকের সামনে থেকে তোলা দৃশ্য। প্রথম আলো

২০০১ সালেও এলাকাটি ছিল নিম্নাঞ্চল। প্রতি কাঠা জমি কেনাবেচা হতো কমবেশি সাত লাখ টাকায়। কিন্তু ২০১৮ সালে এসে বদলে গেছে চিত্রপট। নিম্নাঞ্চল ভরাট। সুউচ্চ ভবনে ছেয়ে গেছে চারপাশ। তাতে বসতি গড়ছে সাধারণ মানুষ। আর পাল্লা দিয়ে জমির দামও প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে। প্রতি কাঠা জমি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ লাখ টাকায়।

বদলে যাওয়া এলাকাটির অবস্থান ঢাকার মোহাম্মদপুরে। স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘মোহাম্মদী হোমস আবাসিক এলাকা’ বলে পরিচিত। গত শনিবার প্রায় ১৫ বিঘা আয়তনের এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, ভেতরে প্রশস্ত সড়কের দুই পাশে দেবদারুগাছের সারি। এর পাশ ঘেঁষে সারি সারি উঁচু ভবন। ৮ থেকে ১২ তলা পর্যন্ত। ফাঁকা প্লট নেই বললেই চলে। কয়েকটি প্লটে চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। এ রকম একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে কাথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে আমি তিন কাঠা জমি কিনি ২১ লাখ টাকায়। বর্তমানে ওই জমির দাম প্রায় ১৩ গুণ বেড়েছে। কেউ ভাবেনি এত অল্প সময়ের মধ্যে এলাকাটি এভাবে বদলে যাবে।’ সহজ যোগাযোগব্যবস্থা, আশপাশ ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা ও বড় কাঁচাবাজারের অবস্থানের কারণেই এলাকাটিতে দ্রুত মানুষ বাসতি গড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আবাসিক এলাকাটির পূর্ব পাশ ঘেঁষে গাবতলী–মোহাম্মদপুর বেঁড়িবাধ সড়ক। এ পথে খুব সহজেই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে নগরীর  প্রায় সব

গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে যাওয়া যায়। পশ্চিম পাশের সড়ক দিয়ে মিনিট দশেক হাঁটলেই মোহাম্মদপুরের মূল সড়ক। যাওয় যায় কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউল হল বাজারে। এ ছাড়া এলাকাটির কাছাকাছি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আট–দশটি ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান।

এলাকাটিতে প্রবেশের পথ চারটি। চারটি প্রবেশপথেই নির্মাণ করা হয়েছে ফটক। পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুটি বড় ফটকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন চারজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁরা জানান, এলাকার নিরাপত্তার জন্য ভেতরে একটি অনসার ক্যাম্প রয়েছে। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাও রয়েছে। নিরাপত্তার সার্বিক দিকটি দেখভাল করছে এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠান।  

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আবাসনে মোট প্লটের সংখ্যা ৫৪টি। প্রকল্পটি একসময় মোহাম্মদী হাউজিং লিমিটেডের মালিকানাধীন ছিল। তাদের কাছ থেকে প্লট আকারে ব্যক্তিগতভাবে খণ্ড খণ্ড জমি কেনে সাধারণ মানুষ। পরে প্লট মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে মোহাম্মদী হোমস লিমিটেড নামে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলাকাটির সিংহভাগ ভবন নির্মাণ করছে।

কথা হয় মোহাম্মদী হোমস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোশারেফ হোসেনের সঙ্গে, তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০৬ সাল থেকে এখানে ভবন নির্মাণের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি। এখানে প্রায় ৩০০ কাঠা জমিতে আমরা ২৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি। এর মধ্য ১৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ শেষে বিক্রিও হয়ে গেছে। আর ১৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে। এ আবাসনের ৯০ ভাগ প্লটের ভবন নির্মাণ করেছি আমরা।’

আবাসন এলাকাটিতে বর্তমান একটি ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ৭০ লাখ থেকে ৯৫ লাখ টাকা। পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা নেই। তবে এলাকাটির সামনে দিয়ে প্রবাহিত রামচন্দ্রপুর খালে সারা বছর জমে থাকে ময়লা-আবর্জনা। তাতে মশা জন্মায়। বলা যায়, এটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আর খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বর্ষায় পানি উপচে সড়ক দিয়ে প্রবাহিত হয়। জলমগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয়ানক দুর্ভোগে পড়তে হয় এ এলাকার বাসিন্দাদের।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদী হোমস বাড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ওয়াসা ও  ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া, তারা যেন রামচন্দ্রপুর খালটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি ঠিকঠাকভাবে করে। এতে শুধু এ এলাকা নয়, খালের দুই পাশের বড় আট–দশটি আবাসিক এলকার দৃশ্যপটই বদলে যাবে।’

উল্লেখ্য, মোহাম্মদী হোমস আবাসনের চারপাশ ঘিরে মোহাম্মদী হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি, নবোদয় হাউজিংসহ আট–দশটি বড় আবাসন প্রকল্পের অবস্থান।