লাঙ্গল নয়, নৌকার দাবিতে মিছিল

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনটি মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির জন্য আওয়ামী লীগকে গত দুই নির্বাচনে  ছেড়ে দিতে হয়। এখানে বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্তের ঘোষণা দিলেও এই আসনটি এখনো বাকি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই আসনে নৌকা মার্কার দাবিতে গতকাল রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাজি আবদুল কাইয়ুম। এ সময় পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দাবি, এই আসনটি আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হওয়া সত্ত্বেও জোটের কারণে বারবার লাঙ্গল মার্কার জন্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ফলে ১০ বছর ধরে এখানকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অপমানিত। তাই তাঁরা এবার যে করেই হোক, এই আসনে নৌকা মার্কা চাইছেন। এর দাবিতে গতকাল সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত লোক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে করিমগঞ্জ বাজারের মোরগমহল এলাকায় এসে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার মোরগমহল এলাকায় গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রায় দুই মাস ধরে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে করিমগঞ্জ-তাড়াইলবাসীকে রক্ষা করতে ও দলীয় প্রতীক নৌকার দাবিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সব নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। তাঁরা এর আগে পরপর দুবার লাঙ্গলের জন্য ছাড় দিয়েছেন। কিন্তু এবার এই আসনটি এবার মহাজোটের প্রার্থীকে না দিয়ে তাঁদের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। অন্যথায় তাঁরা এই আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে মুজিবুল হক বরাবরই বলে আসছেন, তিনি এই আসনে মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন।

নূর মোহাম্মদের মনোনয়নের খবরে আনন্দ মিছিল

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নূর মোহাম্মদ কটিয়াদীর বাসিন্দা। সরকারি উচ্চ পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর কয়েক মাস ধরে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া বাড়িয়ে দেন তিনি। তখন থেকেই নূর মোহাম্মদ সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠেন। অনেকে ধারণা করতে থাকেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন। কয়েক মাস আগে থেকে নূর মোহাম্মদ নিজেই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন থেকেই তাঁকে ঘিরে মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে কয়েকটি শোডাউন করেন তিনি। প্রতিটি শোডাউনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১৫ জন। এর মধ্যে সাংসদ সোহরাব উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।

>জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কিশোরগঞ্জ–৩ আসনটি এখনো বাকি রয়েছে।

নূর মোহাম্মদের মনোনয়নের খবরে তাঁর সমর্থকেরা পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদীতে পৃথক আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদ বলেন, পুলিশের একজন সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তিকে নেতা হিসেবে পেয়ে তাঁরা আজ খুবই খুশি। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাঁরা এই নেতার জন্য মাঠে কাজ করছেন। অপরদিকে গত পাঁচ বছর তাঁরা বর্তমান সাংসদ সোহরাব উদ্দিন কর্তৃক নির্যাতন ও জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। অত্যাচারী একটি লোকের মনোনয়ন বাদ পড়ায় আজ পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদীর পাড়ায় পাড়ায় ও মহল্লায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন কিশোরগঞ্জ-১ থেকে টানা চারবারের সাংসদ ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আবারও মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা শহরে আনন্দ মিছিল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন। এ কারণে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর নির্বাচন করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। প্রিয় নেতার মনোনয়নের খবরে তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বাকি তিন আসনে যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁরা হলেন কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে বর্তমান সাংসদ বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বড় ছেলে বর্তমান সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বর্তমান সাংসদ মো. আফজাল হোসেন।