শেষ দিনে জমার হিড়িক

রওশন এরশাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জাপার সম্পাদক ফকরুলসহ অন্য নেতারা।  প্রথম আলো
রওশন এরশাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জাপার সম্পাদক ফকরুলসহ অন্য নেতারা। প্রথম আলো

ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনায় ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপির বিভিন্ন দলের আড়াই শ প্রার্থী গতকাল বুধবার তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর আগে একই আসনে আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান। বিএনপি প্রার্থী সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজওয়ান আহাম্মদসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ কটিয়াদীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাজমুল হাসান নিজে উপস্থিত থেকে প্রথমে ভৈরব ও পরে কুলিয়ারচরে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুই উপজেলায় পৃথকভাবে বিএনপি প্রার্থী শরীফুল আলমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও প্রার্থী নিজে উপস্থিত ছিলেন না। এই আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলাম ফ্রন্ট প্রার্থী মুহাম্মদ রুবেল হোসেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোহাম্মদ মুসা খান। মোট ৫৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ

এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৮ জন, বিএনপির ২৫ জন জাতীয় পার্টির ৫ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। ময়মনসিংহ-১ আসনে জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-২ আসনে শরীফ আহমেদ, শাহ শহীদ সারওয়ার, আবুল বাসার আকন্দ, ময়মনসিংহ-৩ আসনে নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বর্তমান সাংসদ সালাহ উদ্দিন আহমেদ, জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ-৬ আসনে মোসলেম উদ্দিন, কে আর ইসলাম, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, জসিমউদ্দিন, শামছউদ্দিন আহমেদ, আখতারুল আলম ফারুক, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৭ আসনে রুহুল আমিন মাদানি মনোনয়নপত্র জমা দেন। ময়মনসিংহ ৮ আসনে মাহমুদ হাসান, বর্তমান সাংসদ ফখরুল ইমাম, সাবেক সাংসদ শাহ নুরুল কবীর, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ময়মনসিংহ ৯ আসনে বর্তমান সাংসদ মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান, মেজর জেনারেল (অব) আবদুস সালাম, খুররম খান চৌধুরী, ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনে ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও ময়মনসিংহ-১১ আসনে কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, আমান উল্লাহ সরকার ও ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ময়মনসিংহ-৪ ও ময়মনসিংহ-৭ আসনে রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম।

শেরপুর

শেরপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মো. আতিউর রহমান, বিএনপি থেকে মো. হযরত আলী, সানসিলা জেবরিন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ফজলুল কাদের এবং মো. ইলিয়াছ উদ্দিন (জাতীয় পার্টি-এরশাদ),  শেরপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এ কে এম ফজলুল হক, বিএনপি থেকে মো. মাহমুদুল হক এবং আবু নাসের (জাতীয় পার্টি-এরশাদ), মো. আব্দুস সাত্তার (ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ), আবু বক্কর সিদ্দিক (প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক পার্টি), মো. সোহরাওয়ার্দী বাহাদুর (স্বতন্ত্র), মো. মাহমুদুল হাসান (স্বতন্ত্র) ও মো. ইন্তাজ আলী (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া  শেরপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার হায়দার আলী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মুখলেছুর রহমান রিপন ও ফাহিম চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জামালপুর

জামালপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আবুল কালাম আজাদ ও নূর মোহাম্মদ। বিএনপি থেকে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও তাঁর ছেলে শাহাদৎ বীন জামান এবং আব্দুল কাইয়ুম। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাপ থেকে মো. সুরুজ্জামান মনোনয়নপত্র জমা দেন। জামালপুর-২  আসনে আওয়ামী লীগের ফরিদুল হক খান। বিএনপি থেকে সুলতান মাহমুদ বাবু, এ এস এম আব্দুল হালিম ও মো. মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ কমিউনিষ্টের মনজুরুল আহসান খান ও ইসলামী আন্দোলন মিনহাজ উদ্দিন। জামালপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মির্জা আজম, বিএনপি থেকে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে বাবুল ও বদরুদ্দোজা বাদল, বাংলাদেশ জাকের পার্টির মো.আব্দুল হাকিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফিকুল ইসলাম, বাংশাদেশ শরীয়াহ আন্দোলনের মো. মাসুম বিল্লাহ্, গণফোরাম থেকে নঈম জাহাঙ্গীর, জাতীয় পার্টির মনজুর আহাদ হেলাল ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিবলীল বারী রাজু। জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মোজাফফর হোসেন, রেজাউল করিম ওরফে হীরা, মোহাম্মদ আলী, বিএনপি থেকে ওয়ারেছ আলী মামুন ও সিরাজুল হক, জামালপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ মুরাদ হাসান, বিএনপির বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল কবির তালুকদার, জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান, গণফোরামের রবিউল ইসলাম তরফদার, মনোনয়নপত্র  জমা দেন।

টাঙ্গাইল

৭৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। টাঙ্গাইল-১ আসনে মো. আব্দুর রাজ্জাক, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরকার শহিদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, আশরাফ আলী, সালামত হোসাইন খান, আবু মিল্লাত হোসেন ও  খন্দকার আনোয়ারুল হক, টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান, খন্দকার মশিউজ্জামান, সুলতান সালাউদ্দিন, শামছুল আলম, মো. রফিকুল ইসলাম, মুনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আতাউর রহমান খান, লুৎফর রহমান খান, মাইনুল হোসেন, মো. আবদুর রশিদ, আতাউর রহমান খান, খলিলুর রহমান, এস এম চান মিয়া, রেজাউল করিম ও মো. আবু হানিফ, টাঙ্গাইল-৪ আসনে হাসান ইমাম খান, লুৎফর রহমান মতিন, বেনজির টিটো, আব্দুল হালিম, কাদের সিদ্দিকী, আজাদ সিদ্দিকী, লিয়াকত আলী, লতিফ সিদ্দিকী, আবুল কাশেম, জাকির হোসেন, মির্জা আবু সাঈদ, সাদেক সিদ্দিকী, সৈয়দ মোস্তাক হোসেন, মোন্তাজ উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ছানোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, ছাইদুল হক, শফিউল্লাহ আল মুনির, হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, আবু তাহের, শামীম আল মামুন, খন্দকার ছানোয়ার হোসেন, সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা, মুরাদ সিদ্দিকী ও আবুল কাশেম মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৬ আসনে আহসানুল ইসলাম টিটু, গৌতম চক্রবর্তী, নুর মোহাম্মদ খান, আখেনুর মিয়া, সুলতান মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন, রবিউল আওয়াল, মাহমুদল হক, আশরাফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ আসনে একাব্বর হোসেন, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মো. সাইদুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, লিপি বেগম, গোলাম নওজব চৌধুরী, শাহীনুল ইসলাম, রুপা রায় চৌধুরী ও সৈয়দ মজিবুর রহমান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে জোয়াহেরুল ইসলাম, কাদের সিদ্দিকী, কুঁড়ি সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, শফি সরকার, আব্দুল লতিফ মিয়া প্রমুখ মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনে মোট ৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের ৬ জন, বিএনপির ১৩ জন, জাতীয় পার্টির (এ) ২ জন,  সিপিবির ৪ জন, এলডিপির ১ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৫ জন ও অন্যান্য দলের ৭ জন। এ ছাড়া দুটি আসনে আওয়ামী লীগের ৩ জন নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। নেত্রকোনা-১ আসনে মানু মজুমদার, এরশাদুর রহমান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, গোলাম রব্বানী, এম এ করিম আব্বাসী, নজরুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম খান, আলকাছ উদ্দিন,  মোস্তফা জামান আব্বাছী, মামুনুর রশিদ, মোশতাক আহমেদ রুহী ও শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার, নেত্রকোনা-২ আসনে আশরাফ আলী খান, আশরাফ উদ্দিন খান, এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানি, আবু হায়দার মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, আসমা সুলতানা, রতন সরকার, মোশতাক আহমেদ, খোরশেদ আলী ও বরকত উল্লাহ, নেত্রকোনা-৩ আসনে অসীম কুমার উকিল, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, রফিকুল ইসলাম হিলালী, জসিম ভূঁইয়া, জাকির হোসেন, অধ্যক্ষ আনোয়ার হাসান ও এহতেশাম সারওয়ার, নেত্রকোনা-৪  আসনে বর্তমান সাংসদ রেবেকা মমিন, তাহমিনা জামান, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জলি তালুকদার, মোফাজ্জল হোসেন, নেত্রকোনা-৫ আসনে সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতীক, আবু তাহের তালুকদার, এ এস এম শহীদুল্লাহ, রাবেয়া খাতুন, শামীম হোসেন মনোনযনপত্র জমা দিয়েছেন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ভৈরব, প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ, নান্দাইল, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, সরিষাবাড়ী, শেরপুর, নালিতাবিড়ী, টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনা)