আয় বেড়েছে, দায়ও কমেনি এনামের

এনামুর রহমান
এনামুর রহমান

ডা. মো. এনামুর রহমান পেশায় একজন চিকিৎসক। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর আয়-উপার্জনের উৎস যথেষ্টই সীমিত ছিল। সেই আয়ের পাশাপাশি যথেষ্ট দায়ও ছিল। এবারের নির্বাচনের হলফনামায় আয়ের উৎস বেড়েছে। বেড়েছে পরিমাণও। তবে দায়ের বোঝা কমেনি। তিনি ঢাকা-১৯ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গতবারের হলফনামায় এনামের ঋণ দেখানো হয়েছিল ২৯ কোটি ৬৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এই ঋণ ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে নেওয়া। এবার কোনো ব্যাংকঋণ নেই। তবে কোম্পানির চেয়ারম্যান/এমডি হিসেবে তাঁর দায় আছে ৫৮ কোটি ৩০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭০ টাকা। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীরও দায় রয়েছে ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৮ টাকা।

এবারের হলফনামা অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডা. এনামের তুলনায় তাঁর স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের আয় অনেক বেশি। যেমন, ভাড়া বাবদ তাঁর কোনো আয় নেই। নির্ভরশীলদের আয় বছরে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি। ব্যবসায়িক কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দুই খাতে তাঁর মোট আয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। যেখানে তাঁর নির্ভরশীলদের আয় ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এনামের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার। তাঁর স্ত্রীর কাছে ১৮ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। পোস্টাল-সেভিং সার্টিফিকেটে তাঁর আমানত বা বিনিয়োগ ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৪ টাকা। তাঁর স্ত্রীর ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ৯১৪ টাকা। তাঁর নিজের সোনা আছে ৪০ ভরি। তাঁর স্ত্রীর ৮০ ভরি।

গতবারের হলফনামায় ডা. এনামের অকৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখ ছিল ১৮ দশমিক ১২ শতক। এবারের হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর নামে অকৃষিজমির পরিমাণ ৫৭৮ শতক। নির্ভরশীলদের নামে আছে আরও সাড়ে ৮ শতক। অন্যান্য খাতে তাঁর স্ত্রীর নামে আরও ২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ৯০৭ টাকা রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। গতবারের হলফনামায় পেশা থেকে ডা. এনামের আয় উল্লেখ করা হয়েছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এবারের হলফনামায় এই খাতে কোনো আয় দেখানো হয়নি। তবে সাংসদ হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা বাবদ আয় দেখিয়েছেন ২৩ লাখ ৩৪ হাজার।