খালেদার 'বিকল্প' মিলটন টিকে গেলেন আপিলে

মোরশেদ মিলটন
মোরশেদ মিলটন

‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবে পরিচিত বগুড়া–৭ (গাবতলী–শাজাহানপুর) আসনে নির্বাচন করতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সম্পাদক মোরশেদ মিলটন। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার ‘বিকল্প’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী মোরশেদ মিলটনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে গতকাল শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘বিকল্প’ প্রার্থী হতে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মিলটন। ২ ডিসেম্বর যাচাই–বাছাইয়ের দিনে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। অন্যদিকে দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়ায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ফলে আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীশূন্য হয়।

মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার পর মোরশেদ মিলটন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে থেকে যথাযথভাবে পদত্যাগ করে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ করে দিতে অন্যায়ভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বিএনপি ছাড়া জিয়ার জন্মভিটায় কোনো নির্বাচন হবে না। এ কারণে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মিলটন বলেন, ‘এখন ভোটের লড়াই নয়; ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন হবে অশুভ আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভ শক্তি ও ন্যায়ের লড়াই।’

এই আসনের ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত পাঁচ দফায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। তবে প্রতিবারই তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচন হয়েছে।

জয়পুরহাট

প্রথম আলোপ্রতিনিধি, জয়পুরহাট জানান, নির্বাচন কমিশনে আপিল করে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানিতে ফজলুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে মনোনয়পত্র যাচাই–বাছাইকালে জয়পুরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন ফজলুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। ফজলুর রহমান জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এই আসনে তিনজন চিঠি পান। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মণ্ডল, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সল আলীম ও ফজলুর রহমান। ফজলুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগের আবেদন করলেও তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত না হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

ফজলুর রহমান ঢাকা থেকে মুঠোফোনে জানান, তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে গত সোমবার আপিল করেন। গতকাল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি আশাবাদী প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন পাবেন। 

সিরাজগঞ্জ

প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপির চারজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হারুনার রশিদ খান বলেন, সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি আইনুল হক, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের ও উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি নেতা সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এম এ মতিনের ছেলে এম এ মুহিত প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পরে তা গৃহীত হওয়ার কাগজ না দেখানো ও ঋণখেলাপি-বিলখেলাপির দায়ে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করে দেন। আপিল করলে শুনানির পরে তাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পান।