আয় বাড়েনি, তবু নগদ বেড়েছে ২০ গুণ

আবদুল হাই
আবদুল হাই

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে সরকারদলীয় প্রার্থী বর্তমান সাংসদ আবদুল হাইয়ের ব্যবসার অবস্থা ভালো না। আগে বছরে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা আয় করলেও বর্তমানে আয় হচ্ছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। কৃষি খাতে তাঁর কোনো আয়ই বাড়েনি। তবু এবার তাঁর ও স্ত্রীর হাতে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। এর মধ্যে সাংসদের হাতে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১ টাকা, আর স্ত্রী গৃহিণী মোছাম্মৎ সেলিনা পারভিনের হাতে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আবদুল হাইয়ের হাতে নগদ টাকা ছিল ৬ লাখ টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৭ টাকা। হিসাব অনুযায়ী সাংসদের এই ৫ বছরে নগদ টাকা বেড়েছে ২০ গুণ, আর স্ত্রীর বেড়েছে ৫ গুণ।

৫ বছর আগেও কৃষি খাতে সাংসদের বার্ষিক আয় ছিল ২৫ হাজার টাকা, এখনো সেই পরিমাণই রয়েছে। এই খাতে কোনো আয় বাড়েনি।

অবশ্য উল্লেখিত সময়ে সাংসদ হিসেবে আবদুল হাইয়ের সম্মানী বেড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি সাংসদ হিসেবে সম্মানী পেয়েছেন বছরে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ টাকা। আর বর্তমানে সাংসদ হিসেবে পাচ্ছেন বছরে ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৬৪ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, এই খাত থেকে তিনি গত সংসদের ৫ বছরে পেয়েছেন ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৫ টাকা। আর বর্তমান সংসদে পেয়েছেন ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা। গত সংসদে ৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে ওই টাকা পাওয়ার পরও তাঁর হাতে নগদ টাকা ছিল মাত্র ৬ লাখ টাকা। আর এবার ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা পেয়েও হাতে নগদ আছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১ টাকা।

হলফনামায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় সাংসদ উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ টাকা। ওই সময়ে স্ত্রীর নামে কোনো জমা না থাকলেও এবার তাঁর নামে ২ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়েছে। আগে তাঁর একটি জিপ গাড়ি ছিল। এবার সাড়ে ৪ লাখ টাকার আরেকটি প্রাইভেট কার যুক্ত হয়েছে।

২০১৪ সালে সাংসদের নিজের ছিল ২০ ভরি স্বর্ণালংকার আর তাঁর স্ত্রীর ছিল ৩০ ভরি। গত ৫ বছরে দুজনের কোনো স্বর্ণালংকার বাড়েনি। হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারের সবই উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।