
ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫টি আসনে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের অধিকাংশ প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত। ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন উচ্চশিক্ষিত। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা দেখে এসব তথ্য জানা গেছে।
ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫টি আসনের মধ্যে ফরিদপুরে ৪টি, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে ৩টি করে এবং রাজবাড়ীতে ২টি আসন রয়েছে। মহাজোট থেকে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির প্রার্থীরাই মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে সবাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অতিক্রম করেছেন। ৬ জন উচ্চমাধ্যমিক পাস, এর মধ্যে ১ জন মহাজোটের ও ৫ জন ঐক্যফ্রন্টের।
স্নাতক পাস করেছেন ১৩ জন, যা মোট প্রার্থীর ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে মহাজোটের ৬ জন ও ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন। স্নাতকোত্তর পাস করেছেন ১০ জন, যা মোট প্রার্থীর ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে মহাজোটের ৭ জন এবং ঐক্যফ্রন্টের ৩ জন।
এ ছাড়া স্নাতকোত্তরের পর পড়ালেখা করেছেন মহাজোটের আরও ১ জন প্রার্থী।
এ সম্পর্কে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ফরিদপুরের সদস্য সাবেক অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘দেশে কোনো সরকারি চাকরি করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যূনতম অভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সংসদ সদস্য হতে হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এ–জাতীয় কোনো মাপকাঠি নেই। এ কারণে দেখা যায়, কোনো সংসদে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ব্যক্তি যেমন আছেন, তেমনি একই মর্যাদা নিয়ে স্বশিক্ষিত কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা লাভকারী ব্যক্তিও আছেন। এতে সমস্যা হয় দুই ধরনের। যে আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হচ্ছে, তার সুফল কিংবা কুফল বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয় সদস্যদের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, উচ্চশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত ব্যক্তিরা একই মঞ্চে পাশাপাশি বসলে তা প্রথমোক্ত ব্যক্তিদের জন্য খুব একটা সুখকর হওয়ার কথা নয়।’
আলতাফ হোসেন আরও বলেন, সাংসদ হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার একটি মানদণ্ড অবশ্যই থাকা উচিত। তাহলে বিষয়টি একদিকে যেমন শোভন হবে, পাশাপাশি সাংসদ হিসেবে কাজ করার মানসিকতা ও দক্ষতারও পরিচয় মিলবে। শিক্ষার পাশাপাশি সাংসদদের সাংস্কৃতিক একটা পরিমণ্ডল থাকা প্রয়োজন। এত দিন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখা হয়নি।