গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের পর গতকাল মঙ্গলবার গণসংযোগে বের হননি বিএনপির নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীঞ্জ ও কবিরহাট) আসনের প্রার্থী মওদুদ আহমদ। তাঁরা দুজনই বলেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা না হলে তাঁরা গণসংযোগে বের হবেন না। এদিকে গতকালও আসন দুটিতে একাধিক স্থানে বিএনপির কর্মীদের ওপর নৌকার সমর্থকদের হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিএনপির কর্মীরা তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটেও হামলার অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গত সোমবার কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া নতুনবাজার এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদের নির্বাচনী গণসংযোগের গাড়িতে হামলার পর দলের নেতা-কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। এ অবস্থায় গতকাল বিকেলে প্রার্থীর বাড়ি থেকে নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেট নিয়ে ফেরার পথে বসুরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হামলার শিকার হন মো. স্বপনসহ কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ এলাকার দুই বিএনপির কর্মী।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশির ভাগ নেতা-কর্মীই হামলা-মামলায় এখন ঘরছাড়া। নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০ জনকে।
বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদ গতকাল বলেন, আগের দিন উপজেলার চরকাঁকড়া এলাকায় তাঁর দুটি নির্বাচনী গাড়ি ভাঙচুরের পর তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফোন করে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছেন এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা না হলে তিনি গণসংযোগে বের হবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা এখনো তাঁকে কিছু জানাননি। এ কারণে তিনি গণসংযোগে বের হননি।
অন্যদিকে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনও গতকাল গণসংযোগে বের হননি। আগের দিন চাটখিল উপজেলার সাহাপুর বাজারে তাঁর দুটি নির্বাচনী গাড়িতে ভাঙচুর হয়। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে এলাকার পরিস্থিতি জানিয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চাটখিল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, আগের দিন প্রচারণার গাড়ি ভাঙচুরের পর গতকাল মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের জনতাবাজার এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাঁচটি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের চার কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। একই দিন বদলকোর্ট ইউনিয়নের রেজ্জাকপুরে বিএনপি সমর্থকদের সাতটি দোকান ভাঙচুর করা হয়।
বিএনপির প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গত সোমবার তাঁর দুটি নির্বাচনী গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে চাটখিল থানায় মামলা করলেও পুলিশ আসামিদের ধরছে না। উল্টো শোনা গেছে মামলার আসামিরা রাতে এসে থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করে গেছেন।
মাহবুব উদ্দিন বলেন, গতকাল বিকেলে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি জানিয়ে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। হামলার ঘটনার পরও তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন, কিন্তু তা না করায় গতকাল তিনি গণসংযোগে বের হননি।
বিএনপির এই দুই প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদ ও মাহবুব উদ্দিন তাঁকে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা জানানোর পরপরই তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছেন। সেনাবাহিনী ও বিজিবিকেও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রার্থীদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে সেনবাহিনী ও বিজিবিকে নিয়ে গণসংযোগে বের হতে পারেন। এরপরও তাঁরা কেন গণসংযোগে বের হননি, তা তাঁর জানা নেই।