এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

মাদারীপুরের কালকিনিতে বখাটের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী। গতকাল সকালে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  ছবি: প্রথম আলো
মাদারীপুরের কালকিনিতে বখাটের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী। গতকাল সকালে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: প্রথম আলো

ছয় মাস আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। পরে পারিবারিকভাবে আংটিও পরানো হয় মেয়েকে। কিন্তু হঠাৎ কনের পরিবার জানায়, এ বিয়ে তারা আর চাইছে না। এরপর শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী ওই ছেলের ছোট ভাই তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী কনেকে কুপিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুরের কালকিনিতে। গুরুতর জখম ওই পরীক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকাবাসী, পরীক্ষার্থীর পরিবার ও পুলিশের ভাষ্যমতে, মাস ছয়েক আগে কালকিনির সাহেবরামপুর এলাকার সালাম আকনের বড় ছেলে ইতালিপ্রবাসী রোমন আকনের (৩০) সঙ্গে উপজেলার একটি গ্রামের ওই মেয়ের (১৫) বিয়ের এনগেজমেন্ট (আংটি পরানো) হয়। পরে তার পরিবার এ বিয়েতে আপত্তি জানায়। এতে খেপে যান রোমনের ছোট ভাই শামন আকন (২৫)। একপর্যায়ে স্কুলে যাওয়ার পথে মেয়টিকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন তিনি। দেন প্রেমের প্রস্তাবও। কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে মেয়েটিকে হত্যার হুমকি দেন। পরে গতকাল সকালে তাকে একা পেয়ে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তার পথ আটকান শামন। এ সময় পরীক্ষার্থী বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ালে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।

মেয়েটির চাচি অভিযোগ করেন, মুঠোফোনে ছেলেমেয়ের বিয়ের পাকাপাকি করা হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। সেটি বিবেচনা করে ও ছেলেপক্ষ থেকে কিছু তথ্য গোপন করার বিষয় জানার পর এই বিয়েতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। মেয়েটির ওপর এ হামলার বিচার চান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামন আকন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। আমার ভাই আজ (মঙ্গলবার) বিদেশ থেকে দেশে আসছেন। এলাকার ওই ঘটনায় আমার নাম শুনে আমিও তো অবাক। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।’

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দোতলায় মহিলা ওয়ার্ডের একটি শয্যায় যন্ত্রণাকাতর ওই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। পাশে তার স্বজনেরা দাঁড়িয়ে। তাঁদের চোখে পানি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে গুরুতর অবস্থায় মেয়েটিকে এখানে ভর্তি করা হয়। তার মাথার পেছনে গুরুতর জখম আছে। ২৪ ঘণ্টা না পেরোলে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

জানতে চাইলে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। ওই শিক্ষার্থীর মাথা, ঘাড়ে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন আছে। পরিবারের ভাষ্য অনুসারে, হামলাটি বিয়েসংক্রান্ত জেরেই হবে। মেয়ের পরিবার যদি মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়, তাহলে আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’