ট্রাক থেকে মাটি পড়ে কাদাপানি, দুর্ভোগ

চলমান ট্রাক থেকে মাটি পড়েছে পাকা সড়কে। বৃষ্টির পানিতে তৈরি হয়েছে কাদা। দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন। ফরিদপুর সদর উপজেলায় গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়কের ছয় কিলোমিটারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের তালতলা থেকে চর মাধবদিয়া, অম্বিকাপুর হয়ে ডিক্রির চর ইউনিয়নের ধলার মোড় পর্যন্ত সড়কের ছয় কিলোমিটার কাদাপানিতে একাকার। এই কাদার কারণে যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। সড়কের পাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ধলার মোড় এলাকায় কয়েকজন কোদাল দিয়ে বাড়ির সামনের সড়কের কাদা সরিয়ে দিচ্ছেন।
লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকায় অন্তত ৪০টি ইটভাটা রয়েছে। ভাটায় মাটি নেওয়ার জন্য সড়ক দিয়ে দিনরাত চলাচল করে ট্রাক ও ট্রলি। পরিবহনের সময় মাটি পড়ে সড়কে। গত রোববার থেকে গতকাল পর্যন্ত কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কে কাদাপানির সৃষ্টি হয়েছে।
ধলার মোড় বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা রিজু মিয়া (৪৫) বলেন, ‘ভাটার ট্রাকের জন্য বিপদে আছি। এত দিন ধুলার মধ্যে ছিলাম। এখন কাদার মধ্যে আছাড় খেতে হচ্ছে।’
মদনখালী এলাকার খাবার হোটেল ব্যবসায়ী রিয়াজুল শেখ (৩১) বলেন, ‘এখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মাটি বহনকারী ট্রাক যাওয়া–আসা করে। ট্রাকের চাকার ঘর্ষণে কাদামাটি হোটেলের ভেতরে আইসা পড়ে। আমরা বড় বিপদের মধ্যে আছি।’
চুনাঘাটা এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবুল ফকির (৪২) বলেন, ‘দোকানে এক দণ্ড বইসা থাকার উপায় নাই। আগে ধুলা খাইতাম। এখন খাচ্ছি কাদা। কার কাছে গেলে যে এর সমাধান পাব, জানি না।’
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে আমাদের কাজ করতে হয়। ইট পোড়ানোর মৌসুম শুরু হয় শীতের শুরু থেকে চার মাস পর্যন্ত। এ সময়ে সড়কে ট্রাক চলাচল করায় এবং মাটি পড়ে যাওয়ায় জনগণের কিছু ভোগান্তি হচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর জন্য মূলত দায়ী ট্রলি। ট্রলিতে করে মাটি আনা–নেওয়া বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকিবুল বারি বলেন, ‘সমস্যাটি আমাদের নজরে রয়েছে। ইটভাটার মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে কয়েকটি ট্রলিকে আটক করে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে তাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না। আগামী জেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।’