ফরিদপুরের নগরকান্দায় তালমা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দুই ছেলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্রে এজেন্ট থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ খানের মেয়ে ফারজানা খান।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার তালমা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত দেলোয়ারা বেগম (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ খান (আনারস)।
২০১৬ সালে ৪ জুন অনুষ্ঠিত তালমা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবু শহীদ মিয়া। গত বছর ১৬ অক্টোবর তিনি মারা যান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ারা বেগম প্রয়াত আবু শহীদ মিয়ার স্ত্রী।
ফিরোজ খান এর আগে তিনবার ওই ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি (ফিরোজ খান) আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে ফিরোজ খানকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ খানের মেয়ে ফারজানা খান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ারা বেগমের দুই ছেলে জামাল হোসেন ও কামাল হোসেন এবং তাঁদের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে আমাদের কর্মীদের হুমকি-ধমকির পাশাপাশি আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, ভোট দিতে হবে টেবিলের ওপর। কোনো বুথ থাকবে না। যাঁরা নৌকায় ভোট দেবেন না, তাঁদের খবর আছে। আনারস প্রতীকের কোনো এজেন্ট থাকতে পারবেন না। কেউ যদি সাহস দেখিয়ে আনারস মার্কার এজেন্ট হন, তবে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে।’
ফারজানা খান আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে এমন সব বক্তব্য শুনে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে ভোটাররা ভোট দিতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মারধর ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেরা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি জানান মারধরের শিকার হয়ে তাঁদের তিন কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছেলে জামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী। গত সংসদ নির্বাচন যেভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে, এ নির্বাচনেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না।’