মা-বাবাকে খুঁজে ফিরছেন হারিয়ে যাওয়া তানিয়া

১৬ বছর আগে রাজধানী ঢাকা থেকে হারিয়ে যান ৬ বছর বয়সী তানিয়া। এরপর আর নিজের মা-বাবাকে দেখেননি। পালক মা-বাবার কাছে থেকে বড় হয়েছেন। বিয়ের পর নিজের কোলজুড়েও এসেছে দুই সন্তান।
কিন্তু মা-বাবাকে কাছে পাওয়ার আশা ছাড়েননি মন থেকে। তাঁদের খোঁজে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নিকট আত্মীয়দের পাঠিয়েছিলেন তানিয়া।
তানিয়া আক্তার (২২) এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বাসিন্দা। ২০১৪ সালে আখাউড়ার শান্তিনগর গ্রামের মো. আনোয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয়।
তানিয়া মুঠোফোনে বলেন, তাঁর বাবার নাম সুন্দর আলী সিকদার, মায়ের নাম বিলকিস বেগম, বড় ভাই কাইয়ুম এবং ছোট দুই বোন সনিয়া ও মনিকা। ২০০৩ সালে ৬ বছর বয়সে তানিয়াকে নিয়ে বাবা সুন্দর আলী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক ফুফুর বাসায় বেড়াতে যান। সুন্দর আলী মেয়ে তানিয়াকে ফুফুর বাসায় রেখে বাড়িতে রওনা দেয়। এ সময় সবার অলক্ষ্যে তানিয়া বাবার পিছু পিছু কিছুদূর যায়। এরপর আর ফুফুর বাড়ি তিনি খুঁজে পাননি। এদিকে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে টেলিভিশন দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। পরে কান্নাকাটি শুরু করেন।
তখন গাজীপুর সদর উপজেলার জাজর গ্রামের মো. শাহেদ আলী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তানিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যান। শাহেদ আলী তানিয়াকে মেয়ের মতো লালন-পালন করেন। ২০১৪ সালে তানিয়ার বিয়ে দেন।
শাহেদ আলী বলেন, তানিয়া ইদানীং মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। দিন-রাত সব সময়ই চোখের পানি ঝরছে মা-বাবা, ভাই-বোনদের একনজর দেখার জন্য। কিন্তু তানিয়া উপজেলার নাম মঠবাড়িয়া ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। ছোটবেলার স্মৃতির মধ্যে আছে, বড় একটি পানি ট্যাংকের কাছ থেকে ভ্যানে করে তাঁরা লঞ্চঘাটে যেতেন। তিনি ও তানিয়ার দেবর রবি মিয়া তানিয়ার মা-বাবাকে খুঁজে বের করার জন্য মঠবাড়িয়া গিয়েছিলেন।
তানিয়া বলেন, গত রোববার মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তানিয়ার মা-বাবার কোনো খোঁজ পাননি তাঁর স্বজনেরা।
মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আজাদী বলেন, তাঁরা উপজেলার ইউনিয়নগুলোর সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তানিয়ার মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে।