ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিবন্ধিত অটোরিকশা রয়েছে ৫ হাজার ২৪৯টি। অনিবন্ধিত অটোরিকশা আরও প্রায় ৭ হাজার। এ জেলায় লাইসেন্সধারী অটোচালকের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার চালকের লাইসেন্স নেই। এ অবস্থায় জেলায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও কুমিল্লা-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে অটোরিকশা চলাচল করছে। মহাসড়কে মাত্রাতিরিক্ত গতি ও অটোরিকশার কারণে এ দুটি মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমছে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার কুটি চৌমুহনী থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এবং বিশ্বরোড মোড় থেকে শাহবাজপুর ও বিজয়নগর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল করছে।
সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি বিজয়নগরের বুধন্তির শশই এলাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারালে চালক আবদুল হাকিম মিয়া মারা যান। ৩১ জানুয়ারি সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দুটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ২৩ জানুয়ারি মীরহাটিতে একই মহাসড়কে বাসচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী সাবু মিয়া (২৫) ও সাচ্চু মিয়া (৩২) মারা যান। ২১ ডিসেম্বর রাধিকায় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হন। ১১ ডিসেম্বর সুহিলপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী বিষ্ণুপদ দেব (৬৬) ও তাঁর স্ত্রী অঞ্জু রানী (৫৫) মারা যান। ১৪ নভেম্বর সুলতানপুর এলাকায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার যাত্রী জালাল মিয়া (৩০) নিহত হন। ১২ নভেম্বর উরশিউড়ায় অটোরিকশার চাপায় মহিমা নামের ১৫ মাস বয়সী একটি শিশু মারা যায়।
জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সারওয়ার হোসেন বলেন, গত আগস্টে ট্রাফিক সপ্তাহে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে যানবাহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে ১ হাজার ৩৪৮টি মামলা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জরিমানা বাবদ প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চার লাখ টাকার বেশি জরিমানা এসেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৯২। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫ হাজার ২৪৯। এর বাইরে প্রায় সাত হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সড়কে চলাচল করছে। এই ১২ হাজার অটোচালকের মধ্যে প্রায় দেড় হাজারজনের লাইসেন্স আছে। বাকি চালকদের লাইসেন্সও নেই। অর্থাৎ বৈধ পাঁচ হাজার অটোরিকশারও অধিকাংশ চালকের লাইসেন্স নেই।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন মালিক বলেন, বিআরটিএ কয়েক বছর ধরে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ধারকর্জ করে গাড়ি কিনে এখন না চালিয়ে উপায় কী?
অটোরিকশাচালক তাপস পাল, আজিজ মিয়া ও ইউনুস আলী বলেন, বিআরটিএ তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনই নেয় না। কিন্তু পেটের তাগিদে গাড়ি চালাতে হয়। তাঁরা ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আগ্রহী।
জানতে চাইলে জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক জি এম নাদির হোসেন বলেন, লাইসেন্স নিতে হলে সবাইকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু অটোরিকশা চালকদের বেশির ভাগই পড়াশোনা জানেন না। তার ওপর তাঁরা আইনও মেনে চলেন না। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এরপরও চলাচল করায় বিআরটিএ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেছে।