
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার-ছান্দ্রা সড়কের মাইথারকান্দি খালের ওপরের পাকা সেতুটির মাঝখানে ভেঙে গেছে। কাঠের পাটাতন দিয়ে তা মেরামত করা হয়েছে। সেতুটির এক পাশের রেলিংও নেই। এই অবস্থায় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে এর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকার কয়েকজন বলেন, সেতুটি ছয় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরপরও এটি সংস্কার বা এখানে নতুন সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পাকিস্তান আমলে নির্মিত হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে সেতুটির পরিচিতি নম্বর (আইডি) নেই। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের বরাদ্দ চাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সেতুটির ভেঙে যাওয়া পাটাতনে কাঠ ও ঢালাই দিয়ে মেরামত করে প্রায় ছয় বছর ধরে চালানো হচ্ছে। এখনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডটির বর্তমান সদস্য মো. নূরুল আমিন বলেন, সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর সেখানকার কর্মকর্তারা সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। এখনো কাজ হয়নি।
সেতুটির ওপর দিয়ে মাইথারকান্দি, পূর্ব পেন্নাই, রামনগর, ওলানপাড়া, গৌরীপুর, হাটচান্দিনা, ছান্দ্রা, আমিরাবাদ ও ইটাখোলা গ্রামের প্রায় তিন হাজার লোক যাতায়াত করেন।
মাইথারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ ও প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, বৃহত্তর গৌরীপুর বাজারের সঙ্গে মাইথারকান্দিসহ আশপাশের গ্রামের লোকজন সহজে যোগাযোগের জন্য সেতুটি ব্যবহার করেন। একসময় এ সেতু দিয়ে যানবাহনও চলত। ছয় বছর ধরে পথচারীরাও চলাচল করতে ভয় পান।
গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম সাহা বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হলে গৌরীপুর ও জিংলাতলী ইউনিয়নের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ লোকজন যাতায়াতে সুবিধা পেতেন।
এ সেতু দিয়ে গৌরীপুর সুবল আফতাব ও বিলকিছ মোশাররফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সানরাইজ প্রি-ক্যাডেট, ডা. আরজু ইন্টারন্যাশনাল, ভয়েজার ইংরেজি মাধ্যম, আনন্দ মাল্টিমিডিয়া ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যম, আল আজহার, আল ফাতাহ, গৌরীপুর আইডিয়াল ও স্টামফোর্ড স্কুল, বরকোটা, গৌরীপুর অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ও মাইলস্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন, বারপাড়া রাবেয়া মহিলা, আকবর আলী খান কারিগরি বাণিজ্যিক ও জুরানপুর আদর্শ কলেজ এবং গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি ডিগ্রি ও হাসানপুর শহীদ নজরুল সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন।
গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পলি আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ও হৃদয় হাসান বলে, জোড়াতালির এই সেতুতে একসঙ্গে কয়েকজন উঠলে ধসে পড়ার উপক্রম হয়। সেতুর ভাঙা স্থানে পা আটকে মাইথারকান্দি গ্রামের আবদুল খালেকসহ অনেকে আহত হয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী এ সেতু দিয়েই যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর বাজারের সঙ্গে আশপাশের গ্রামের লোকজনের ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সড়ক যোগাযোগ সহজ করার জন্য ১৯৬৮ সালে মাইথারকান্দি খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটির দৈর্ঘ্য ৬৫ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট।
গৌরীপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম সরকার বলেন, সেতুটি এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ গ্রামবাসী নিয়মিত এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। এ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসান আলী বলেন, পাকিস্তান আমলে নির্মিত হওয়ায় এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে সেতুটির কোনো আইডি (পরিচিতি) নম্বর নেই। এ কারণে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের বরাদ্দ চেয়ে তালিকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও জনস্বার্থে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় আনা হবে।