শিক্ষকের পদোন্নতির স্থগিতাদেশ বহাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী প্রমিতি রহমানের ওপর ‘মানসিক নির্যাতনের’ দায়ে মৃত্যুর ঘটনায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বহাল রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৮তম সিন্ডিকেট সভায় ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সালের পদোন্নতি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত শনিবার ৫২০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া একই ঘটনায় প্রীতিলতা হলের সাবেক প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মুনমুন নেছা চৌধুরীকে সতর্ক করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৮তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে কর্মচারী সংবিধির ৪ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী এই শাস্তি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনা এলাকার বাসায় মারা যান ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী প্রমিতি রহমান। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর তাঁর মা আলম আরা বেগম বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়সালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রমিতিকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তিনি এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরীক্ষা কমিটির কাছেও তিনি একই অভিযোগ করেন। এ ছাড়া পরীক্ষার হলে খাতা কেড়ে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করার কথা উল্লেখ করে আরেকটি অভিযোগ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর করা হয়।
এরপর ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ তদন্ত করে দুটি কমিটিই ওই তিন শিক্ষককে দোষী করে শাস্তির সুপারিশ করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রমিতির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা তদন্তের আবেদন করেছিলেন। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটি গভীরভাবে তদন্ত করে ওই তিন শিক্ষকরে বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের বাস্তবায়ন করা হয়েছে।