সবেজান বিবি জানতেন না ভোট হচ্ছে উপজেলায়!

বাগমারায় এক ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। গতকাল দুপুরে উপজেলার বুজরুককোলা ভোটকেন্দ্রে।  ছবি: প্রথম আলো
বাগমারায় এক ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। গতকাল দুপুরে উপজেলার বুজরুককোলা ভোটকেন্দ্রে। ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একডালা গ্রামের সবেজান বিবি (৬৪) জীবনে যতবার ভোট দিয়েছেন, ততবারই হয় এলাকার লোকজন, নয়তো প্রার্থীদের সমর্থকেরা বাড়ি এসে ডেকে নিয়ে গেছেন ভোটকেন্দ্রে। আবার কখনো নিজের ইচ্ছাতেই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে এসেছেন। তবে এবার একেবারেই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার যে উপজেলা পরিষদের ভোট ছিল তা জানাই ছিল না সবেজান বিবির। তাই সকাল সকাল রওনা হয়েছিলেন উপজেলার দেউলা গ্রামে মেয়ের বাড়ির উদ্দেশে। পথে অটোভ্যানেই দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। ভোট দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কিসের ভোট।’

শুধু সবেজান একা নন, প্রচারণার ডামাডোল না থাকায় তাঁর মতো স্থানীয় আরও অনেকের জানা ছিল না ভোটের বিষয়টি। তাই অনেকে কেন্দ্রে যাননি। আবার জানা থাকলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ ছিল না অনেকের মধ্যে। তাই উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ভোটারশূন্য। গতকাল সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও অনিয়ম চোখে পড়েনি। কোনো প্রার্থীর কোনো অভিযোগও নেই।

সকালে উপজেলার একডালা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের গল্পগুজব করতে দেখা যায়। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টার পর ভোটার বাড়তে পারে।

দুপুরে উপজেলার বুজরুককোলা কেন্দ্রে গিয়েও একই অবস্থা দেখা যায়। আনসার–ভিডিপির সদস্যরা ভোটারবিহীন কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছিলেন। তবে এই কেন্দ্রে ভোটারদের আনতে তৎপর ছিলেন নৌকার সমর্থকেরা। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এবং অটোভ্যান পাঠিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করছেন তাঁরা। এই কেন্দ্রের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা খোরশেদ আলম বলেন, তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বলছেন। এখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা বেশি। প্রার্থীও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেলা দুইটায় মচমইল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একই অবস্থা দেখা যায়। দু–একজন ভোটার এসে ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বুথের বারান্দায় পায়চারি করতে দেখা যায়। উপজেলার ১০৬টি ভোটকেন্দ্র। বেলা দুইটা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি।

এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা শাখার সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার এবং ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থক বাবুল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুজন রাজশাহীর বিভাগীয় সমন্বয়ক সুব্রত কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, আসলে এ নির্বাচনে বড় দলের অংশগ্রহণ না থাকায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটাভুটি না হওয়াতেই ভোটারদের আগ্রহ কম।